প্রাচীন বাংলার জাতিভেদ ও সমাজ ||Ancient history of Bengal ||Ancient caste system of Bengal #history

Description

#জাতিভেদ

যে যুগে মনুস্মৃতি, মহাভারত প্রভৃতি রচিত হয়, সেই যুগেই যে আয়ুধর্ম ও সামাজিক রীতিনীতি প্রভৃতি বাংলা দেশে প্রভাব বিস্তার করে, তাহা পূর্বেই বলা হইয়াছে। ইহার পূর্বেকার বাঙালীর ধর্ম ও সমাজ সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান খুবই অল্প। সামান্য যাহা কিছু জানা গিয়াছে, তাহাও সংক্ষেপে পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে।

জাতিভেদ আর্যসমাজের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর্যগণ এদেশে বসবাস করিবার ফলে বাংলায়ও ইহার প্রবর্তন হয়। ইহার ফলে বঙ্গ, সুক্ষ, শবর, পুলিন্দ, কিরাত, পুন্ড্র প্রভৃতি বাংলার আদিম অধিবাসিগণ প্রাচীন গ্রন্থে ক্ষত্রিয় বলিয়া গণ্য হয়। অল্পসংখ্যক বাঙালী যে ব্রাহ্মণ বলিয়া পরিগণিত হইত ইহা খুবই সম্ভবপর বলিয়া মনে হয়; কিন্তু কোন প্রাচীন গ্রন্থে ইহার উল্লেখ পাওয়া যায় নাই। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে দীর্ঘতমা ঋষির যে কাহিনী উল্লিখিত হইয়াছে, তাহা হইতে স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, আর্য ব্রাহ্মণগণ বাঙালী-কন্যা বিবাহ করিতেন। এইরূপ বিবাহের ফলেই আর্য প্রভাব এদেশে পরিপুষ্টি লাভ করিয়াছিল।

যে সকল বাঙালী ব্রাহ্মণ অথবা ক্ষত্রিয় হইয়াছিল, তাহারা সম্ভবত সংখ্যায় খুব বেশী ছিল না। বাংলার আদিম অধিবাসীদের অধিকাংশই শুদ্র জাতিভুক্ত হইয়াছিল। মনুসংহিতায় উক্ত হইয়াছে, পুণ্ড্রক ও কিরাত-এই দুই ক্ষত্রিয় জাতি, ব্রাহ্মণের সহিত সংস্রব না থাকায় এবং শাস্ত্রীয় ক্রিয়াকর্মাদির অনুষ্ঠান না করায়, শূদ্রত্ব লাভ করিয়াছে। কৈবর্ত জাতি মনুসংহিতায় সঙ্কর জাতি বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে, কিন্তু বিষ্ণু-পুরাণে অব্রহ্মণ্য বলিয়া অভিহিত হইয়াছে। সম্ভবত এইরূপে আরও অনেকের জাতিবিপর্যয় ঘটিয়াছে। সুতরাং ইহা সহজেই অনুমান করা যায় যে, বাংলা দেশের জাতিবিভাগ বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়া বর্তমান আকার ধারণ করিয়াছে।

খ্রীষ্টীয় পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে যে এদেশে বহুসংখ্যক ব্রাহ্মণ বাস করিতেন, তাহা পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে। তাহার পরবর্তী সকল যুগেই যে এদেশে বহু ব্রাহ্মণ বাস করিতেন, তাহার বহুবিধ প্রমাণ আছে। বাংলার বহু রাজবংশ-পাল, সেন, বর্ম প্রভৃতি-তাঁহাদের লিপিতে ক্ষত্রিয় বলিয়া অভিহিত হইয়াছেন। এদেশে এরূপ একটি মত প্রচলিত আছে যে, বাংলায় কলিকালে ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ছিল না. কেবল ব্রাহ্মণ ও শুদ্র এই দুই বর্ণ ছিল। ইহার কোন ভিত্তি নাই। প্রাচীন কালে বাংলায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এই চারি বর্ণই ছিল। হিন্দুযুগের শেষ ভাগে বাংলায় রচিত প্রামাণিক শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদিতে চারি বর্ণেরই উল্লেখ আছে এবং তাহাদের বৃত্তি প্রভৃতিও নির্দিষ্ট হইয়াছে।

কিন্তু আর্যসমাজ আদিতে চারি বর্ণে বিভক্ত হইলেও ক্রমে বহুসংখ্যক বিভিন্ন জাতির সৃষ্টি হয়। যে সময় বাংলায় আর্য প্রভাব বিস্তৃত হয়, সে সময় আয সমাজে এরূপ বহু জাতির উদ্ভব হইয়াছে। মনুসংহিতা প্রভৃতি প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে, বিভিন্ন বর্ণের পুরুষ ও স্ত্রীর সন্তান হইতেই এই সকল মিশ্রবর্ণের.....

#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#history
#ইতিহাস
#ancienthistoryofBengal
#Banglarithihas
#historyofbengal

Details

451 Views
#জাতিভেদ

যে যুগে মনুস্মৃতি, মহাভারত প্রভৃতি রচিত হয়, সেই যুগেই যে আয়ুধর্ম ও সামাজিক রীতিনীতি প্রভৃতি বাংলা দেশে প্রভাব বিস্তার করে, তাহা পূর্বেই বলা হইয়াছে। ইহার পূর্বেকার বাঙালীর ধর্ম ও সমাজ সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান খুবই অল্প। সামান্য যাহা কিছু জানা গিয়াছে, তাহাও সংক্ষেপে পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে।

জাতিভেদ আর্যসমাজের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর্যগণ এদেশে বসবাস করিবার ফলে বাংলায়ও ইহার প্রবর্তন হয়। ইহার ফলে বঙ্গ, সুক্ষ, শবর, পুলিন্দ, কিরাত, পুন্ড্র প্রভৃতি বাংলার আদিম অধিবাসিগণ প্রাচীন গ্রন্থে ক্ষত্রিয় বলিয়া গণ্য হয়। অল্পসংখ্যক বাঙালী যে ব্রাহ্মণ বলিয়া পরিগণিত হইত ইহা খুবই সম্ভবপর বলিয়া মনে হয়; কিন্তু কোন প্রাচীন গ্রন্থে ইহার উল্লেখ পাওয়া যায় নাই। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে দীর্ঘতমা ঋষির যে কাহিনী উল্লিখিত হইয়াছে, তাহা হইতে স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, আর্য ব্রাহ্মণগণ বাঙালী-কন্যা বিবাহ করিতেন। এইরূপ বিবাহের ফলেই আর্য প্রভাব এদেশে পরিপুষ্টি লাভ করিয়াছিল।

যে সকল বাঙালী ব্রাহ্মণ অথবা ক্ষত্রিয় হইয়াছিল, তাহারা সম্ভবত সংখ্যায় খুব বেশী ছিল না। বাংলার আদিম অধিবাসীদের অধিকাংশই শুদ্র জাতিভুক্ত হইয়াছিল। মনুসংহিতায় উক্ত হইয়াছে, পুণ্ড্রক ও কিরাত-এই দুই ক্ষত্রিয় জাতি, ব্রাহ্মণের সহিত সংস্রব না থাকায় এবং শাস্ত্রীয় ক্রিয়াকর্মাদির অনুষ্ঠান না করায়, শূদ্রত্ব লাভ করিয়াছে। কৈবর্ত জাতি মনুসংহিতায় সঙ্কর জাতি বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে, কিন্তু বিষ্ণু-পুরাণে অব্রহ্মণ্য বলিয়া অভিহিত হইয়াছে। সম্ভবত এইরূপে আরও অনেকের জাতিবিপর্যয় ঘটিয়াছে। সুতরাং ইহা সহজেই অনুমান করা যায় যে, বাংলা দেশের জাতিবিভাগ বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়া বর্তমান আকার ধারণ করিয়াছে।

খ্রীষ্টীয় পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে যে এদেশে বহুসংখ্যক ব্রাহ্মণ বাস করিতেন, তাহা পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে। তাহার পরবর্তী সকল যুগেই যে এদেশে বহু ব্রাহ্মণ বাস করিতেন, তাহার বহুবিধ প্রমাণ আছে। বাংলার বহু রাজবংশ-পাল, সেন, বর্ম প্রভৃতি-তাঁহাদের লিপিতে ক্ষত্রিয় বলিয়া অভিহিত হইয়াছেন। এদেশে এরূপ একটি মত প্রচলিত আছে যে, বাংলায় কলিকালে ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ছিল না. কেবল ব্রাহ্মণ ও শুদ্র এই দুই বর্ণ ছিল। ইহার কোন ভিত্তি নাই। প্রাচীন কালে বাংলায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এই চারি বর্ণই ছিল। হিন্দুযুগের শেষ ভাগে বাংলায় রচিত প্রামাণিক শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদিতে চারি বর্ণেরই উল্লেখ আছে এবং তাহাদের বৃত্তি প্রভৃতিও নির্দিষ্ট হইয়াছে।

কিন্তু আর্যসমাজ আদিতে চারি বর্ণে বিভক্ত হইলেও ক্রমে বহুসংখ্যক বিভিন্ন জাতির সৃষ্টি হয়। যে সময় বাংলায় আর্য প্রভাব বিস্তৃত হয়, সে সময় আয সমাজে এরূপ বহু জাতির উদ্ভব হইয়াছে। মনুসংহিতা প্রভৃতি প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে, বিভিন্ন বর্ণের পুরুষ ও স্ত্রীর সন্তান হইতেই এই সকল মিশ্রবর্ণের.....

#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#history
#ইতিহাস
#ancienthistoryofBengal
#Banglarithihas
#historyofbengal

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার