ভারতবর্ষের অন্য কোন কোন প্রদেশের ন্যায় বাংলা দেশেও করণ কায়স্থে পরিণত হইয়াছে, অর্থাৎ উভয়ে মিলিয়া এক জাতিতে পরিণত হইয়াছে। খ্রীষ্টীয় পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম শতাব্দীর তাম্রশাসনে 'প্রথম-কায়স্থ' ও 'জ্যেষ্ঠ-কায়স্থ' প্রভৃতির উল্লেখ দেখিয়া মনে হয় যে, তখনও বাংলায় কায়স্থ শব্দে এক শ্রেণীর রাজকর্মচারী মাত্র বুঝাইত। খ্রীষ্টীয় দশম শতাব্দীর একখানি শিলালিপিতে গৌড়-কায়স্থ বংশের উল্লেখ আছে। সুতরাং এই সময়ে বাংলায় কায়স্থ জাতির উৎপত্তি হইয়াছে, এরূপ মনে করা যাইতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, বৃহদ্ধর্ম ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে কায়স্থের কোন উল্লেখ নাই। কুলজী গ্রন্থের মতে আদিশুর কর্তৃক আনীত পঞ্চ ব্রাহ্মণের সঙ্গে যে পঞ্চ ভৃত্য আসিয়াছিল, তাহারাই ঘোষ, বসু, গুহ, মিত্র, দত্ত, প্রভৃতি কুলীন কায়স্থের আদি পুরুষ।
৪। অম্বষ্ট-বৈদ্য
'বৈদ্য' শব্দে প্রথমে চিকিৎসক মাত্র বুঝাইত, পরে ইহা একটি জাতিবাচক সংজ্ঞায় পরিণত হইয়াছে। ঠিক কোন্ সময়ে বাংলা দেশে এই জাতির প্রতিষ্ঠা হয়, তাহা বলা কঠিন। সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর চারিখানি লিপিতে দক্ষিণ ভারতবর্ষে বৈদ্য জাতির উল্লেখ আছে। ইহারা রাজ্যে ও সমাজে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং ই'হাদের কেহ কেহ ব্রাহ্মণ বলিয়া বিবেচিত হইতেন। কিন্তু দ্বাদশ শতাব্দের পূর্বে বাংলায় বৈদ্য জাতির অস্তিত্বের কোন বিশ্বস্ত প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। পূর্বোক্ত শ্রীহট্টের রাজা ঈশানদেবের তাম্রশাসনে তাঁহার মন্ত্রী (পট্রনিক) বনমালীকর 'বৈদ্যবংশপ্রদীপ' বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। পূর্বেই বলা হইয়াছে, একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে বাংলার তিনজন রাজার রাজবৈদ্য করণ-বংশীয় ছিলেন। সুতরাং হিন্দুযুগে বাংলার চিকিৎসা-ব্যবসায়ীরা যে বৈদ্য নামক বিশিষ্ট কোন জাতি বলিয়া পরিগণিত হইতেন, ইহা সম্ভব বলিয়া মনে হয় না।
প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে অবষ্ঠ জাতির উল্লেখ আছে। মনুসংহিতা অনুসারে চিকিৎসাই ইহাদের বৃত্তি। মধ্যযুগে বাংলা দেশে অম্বষ্ঠ, বৈদ্য জাতির অপর নাম বলিয়া গৃহীত হইত। বর্তমান কালে অনেক বৈদ্য ইহা স্বীকার করেন না; কিন্তু সুপ্রসিদ্ধ ভরতমল্লিক অবষ্ঠ ও বৈদ্য বলিয়া নিজের পরিচয় দিয়াছেন। বৃহদ্ধর্ম- পুরাণে অবষ্ঠ ও বৈদ্য একই জাতির নাম, কিন্তু ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে এ দুইটি ভিন্ন জাতি। সম্ভবত বৈদ্য ও অম্বষ্ঠ, কায়স্থ ও করণের ন্যায় একসঙ্গে মিশিয়া গিয়াছে। কিন্তু এ সম্বন্ধে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। বিহার ও যুক্তপ্রদেশে অনেক কায়স্থ অবষ্ঠ বলিয়া পরিচয় দেন। সূতসংহিতায় অম্বষ্ঠকে মাহিষ্য বলা হইয়াছে; কিন্তু ভরতমল্লিক বৈদ্য ও অম্বষ্ঠের অভিন্নত্বসূচক ব্যাস, অগ্নিবেশ ও শঙ্খস্মৃতি হইতে তিনটি শ্লোক উদ্ধৃত করিয়াছেন। ইহার কোন স্মৃতিই খুব প্রাচীন নহে, এবং শ্লোকগুলিও অকৃত্রিম কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে....
#historyofbengal
#history
#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#বাংলা
#অডিওবুক
#ইতিহাস
#BaglarIthihas
#historyofancientbengal