প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা || Financial Situation in Ancient Bengal || বাংলাদেশের ইতিহাস ||

Description

অর্থনৈতিক অবস্থা

১। কৃষি

বাংলা চিরকালই কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের লোকেরা বেশীর ভাগ গ্রামে বাস করিত এবং গ্রামের চতুষ্পার্শ্বস্থ জমি চাষ করিয়া নানা শস্য ও ফলাদি উৎপাদন করিত। এখনকার ন্যায় তখনও ধান্যই প্রধান শস্য ছিল, চাষের প্রণালীও বর্তমান কালের ন্যায়ই ছিল। মহাকবি কালিদাস বঙ্গদেশের ধান্যচাষের প্রণালী সম্বন্ধে একটি মূল্যবান উক্তি করিয়াছেন। রাজা রঘুর দিগ্বিজয় উপলক্ষে বঙ্গদেশের সহিত তাঁহার যুদ্ধের যে উল্লেখ করিয়াছেন তাহার বিবরণ পূর্বেই দিয়াছি। যুদ্ধে পরাজিত হইয়া বঙ্গদেশীয় নৃপতিবৃন্দ বশ্যতা স্বীকার করিলে তাঁহাদের সহিত কিরূপ ব্যবহার করিলেন, কালিদাস তাহা নিম্নলিখিত শ্লোকটিতে বিবৃত করিয়াছেনঃ

"তাঁহাদিগকে পদচ্যুত করিয়া পুনরায় স্বপদে প্রতিষ্ঠিত করার পর তাঁহারা শালিধান্যের ন্যায় (বোয়া ধান) বিজেতা রঘুর পাদপদ্মে প্রণত হইয়া বিপুল ধন- রাশির দ্বারা তাঁহাকে পূজা করিলেন।" (রঘুবংশ ৪র্থ সর্গ, ৩৭)

"উৎখাত প্রতিরোপিত"-এই দুইটি শব্দে এক অর্থে রাজাদের সম্বন্ধে বলা হইয়াছে যে প্রথমে তাঁহারা রাজ্যচ্যুত হইয়াছিলেন, পরে রাজ্যে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হইলেন। শালিধান্যের বেলায় ইহা নিম্নলিখিতরূপে ধান্যচাষের প্রণালী বর্ণিত হয়ঃ প্রথমত, একস্থলে বীজবপনপূর্বক চারা তৈরী করা হয়, পরে চারাগুলি একটু বড় হইলে অন্যত্র রোপণ করা হয় এবং সেই সমুদয় কিছুদিন পরে ধান্যের ভারে একেবারে মাটিতে লুটাইয়া পড়ে।

খুব প্রাচীন কাল হইতেই বাংলাদেশে ইক্ষুর চাষ হইত। ইক্ষুর রস হইতে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও গুড় প্রস্তুত হইত এবং বিদেশে চালান হইত। কেহ কেহ এরূপও অনুমান করিয়াছেন যে, অধিক পরিমাণে গুড় হইত বলিয়াই এদেশের নাম হইয়াছিল গৌড়। তুলা ও সর্বপের চাষও এখানে বহুল পরিমাণে হইত। পানের বরজও অনেক ছিল। বহু ফলবান বৃক্ষের রীতিমত চাষ হইত। ইহার মধ্যে নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠাল, ডালিম, কলা, লেবু, ডুমুর প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

যাহারা চাষ করিত জমিতে তাহাদের স্বত্ব কিরূপ ছিল, রাজা অথবা জমিদারকে কি হারে খাজনা দিতে হইত, ইত্যাদি বিষয়ে কোন সঠিক বিবরণ জানা যায় না। সম্ভবত রাজাই দেশের সমস্ত জমির মালিক ছিলেন। যাহারা চাষ করিত বা অন্য প্রকারে জমি ভোগ করিত, তাহাদের কতকগুলি নির্দিষ্ট কর দিতে হইত। রাজা মন্দির প্রভৃতি ধর্ম-প্রতিষ্ঠান ও ব্রাহ্মণকে প্রতিপালন করিবার জন্য জমি দান করিতেন। এই জমির জন্য কোন কর দিতে হইত না, গ্রহীতা বংশানুক্রমে ইহা চিরকাল ভোগ করিতেন। অনেক সময় ধনীরা রাজদরবার হইতে পতিত জমি কিনিয়া এই উদ্দেশ্যে

দান করিতেন, তাহারাও নিষ্কর ও চিরস্থায়ী বলিয়া গণ্য হইত। তখনকার দিনে নল দিয়া জমি মাপ করা হইত। 'বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন.....
#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#history
#ইতিহাস
#প্রাচীনবাংলারইতিহাস
#প্রাচীনবাংলারঅর্থনৈতিকঅবস্থা

Details

479 Views
অর্থনৈতিক অবস্থা

১। কৃষি

বাংলা চিরকালই কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের লোকেরা বেশীর ভাগ গ্রামে বাস করিত এবং গ্রামের চতুষ্পার্শ্বস্থ জমি চাষ করিয়া নানা শস্য ও ফলাদি উৎপাদন করিত। এখনকার ন্যায় তখনও ধান্যই প্রধান শস্য ছিল, চাষের প্রণালীও বর্তমান কালের ন্যায়ই ছিল। মহাকবি কালিদাস বঙ্গদেশের ধান্যচাষের প্রণালী সম্বন্ধে একটি মূল্যবান উক্তি করিয়াছেন। রাজা রঘুর দিগ্বিজয় উপলক্ষে বঙ্গদেশের সহিত তাঁহার যুদ্ধের যে উল্লেখ করিয়াছেন তাহার বিবরণ পূর্বেই দিয়াছি। যুদ্ধে পরাজিত হইয়া বঙ্গদেশীয় নৃপতিবৃন্দ বশ্যতা স্বীকার করিলে তাঁহাদের সহিত কিরূপ ব্যবহার করিলেন, কালিদাস তাহা নিম্নলিখিত শ্লোকটিতে বিবৃত করিয়াছেনঃ

"তাঁহাদিগকে পদচ্যুত করিয়া পুনরায় স্বপদে প্রতিষ্ঠিত করার পর তাঁহারা শালিধান্যের ন্যায় (বোয়া ধান) বিজেতা রঘুর পাদপদ্মে প্রণত হইয়া বিপুল ধন- রাশির দ্বারা তাঁহাকে পূজা করিলেন।" (রঘুবংশ ৪র্থ সর্গ, ৩৭)

"উৎখাত প্রতিরোপিত"-এই দুইটি শব্দে এক অর্থে রাজাদের সম্বন্ধে বলা হইয়াছে যে প্রথমে তাঁহারা রাজ্যচ্যুত হইয়াছিলেন, পরে রাজ্যে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হইলেন। শালিধান্যের বেলায় ইহা নিম্নলিখিতরূপে ধান্যচাষের প্রণালী বর্ণিত হয়ঃ প্রথমত, একস্থলে বীজবপনপূর্বক চারা তৈরী করা হয়, পরে চারাগুলি একটু বড় হইলে অন্যত্র রোপণ করা হয় এবং সেই সমুদয় কিছুদিন পরে ধান্যের ভারে একেবারে মাটিতে লুটাইয়া পড়ে।

খুব প্রাচীন কাল হইতেই বাংলাদেশে ইক্ষুর চাষ হইত। ইক্ষুর রস হইতে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও গুড় প্রস্তুত হইত এবং বিদেশে চালান হইত। কেহ কেহ এরূপও অনুমান করিয়াছেন যে, অধিক পরিমাণে গুড় হইত বলিয়াই এদেশের নাম হইয়াছিল গৌড়। তুলা ও সর্বপের চাষও এখানে বহুল পরিমাণে হইত। পানের বরজও অনেক ছিল। বহু ফলবান বৃক্ষের রীতিমত চাষ হইত। ইহার মধ্যে নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠাল, ডালিম, কলা, লেবু, ডুমুর প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

যাহারা চাষ করিত জমিতে তাহাদের স্বত্ব কিরূপ ছিল, রাজা অথবা জমিদারকে কি হারে খাজনা দিতে হইত, ইত্যাদি বিষয়ে কোন সঠিক বিবরণ জানা যায় না। সম্ভবত রাজাই দেশের সমস্ত জমির মালিক ছিলেন। যাহারা চাষ করিত বা অন্য প্রকারে জমি ভোগ করিত, তাহাদের কতকগুলি নির্দিষ্ট কর দিতে হইত। রাজা মন্দির প্রভৃতি ধর্ম-প্রতিষ্ঠান ও ব্রাহ্মণকে প্রতিপালন করিবার জন্য জমি দান করিতেন। এই জমির জন্য কোন কর দিতে হইত না, গ্রহীতা বংশানুক্রমে ইহা চিরকাল ভোগ করিতেন। অনেক সময় ধনীরা রাজদরবার হইতে পতিত জমি কিনিয়া এই উদ্দেশ্যে

দান করিতেন, তাহারাও নিষ্কর ও চিরস্থায়ী বলিয়া গণ্য হইত। তখনকার দিনে নল দিয়া জমি মাপ করা হইত। 'বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন.....
#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#history
#ইতিহাস
#প্রাচীনবাংলারইতিহাস
#প্রাচীনবাংলারঅর্থনৈতিকঅবস্থা

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার