Playlist Audiobooks
Description
পথিকৃৎদের পদচিহ্ন: নবীদের জীবন পর্ব ৯ শু’আইব (আ.) এর জীবনী
“সবকিছুর মাঝে ধর্ম টেনে আনার কী দরকার?”
ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে বেঁধে ফেলার এই যে নীতি তাকে বলা হয় সেকুলারিজম বা বাংলায় ইহজাগতিকতা কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্ম এবং মানুষের পাবলিক এফেয়ার্সকে পৃথক রাখার যে ধারণা, তা নতুন কিছুই নয়। যদিও অধুনা সুশীল সমাজ দাবি করে, মানবজাতি একুশ শতকে এসে বিরাট আত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সাধন করে ফেলেছে, প্রযুক্তির চূড়ায় উঠতে শুরু করেছে, তাই তাদের আর ধর্মের দরকার নেই, তারা নিজেরাই নিজেদের জীবনব্যবস্থা রচনা করার সামর্থ্য রাখে। ধর্ম? – সে তো সেকেলে। এটা “যার যার তার তার” ব্যাপার।
দাবি করা হয়ে থাকে, সময়ের সাথে মানুষ আধুনিক হয়েছে আর তাই তার উচিত পুরোনো ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা ঝেড়ে ফেলে সেকুলারিজমকে আলিঙ্গন করা। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এই ধারণা নতুন কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে, এমন “আধুনিক” লোকের আবির্ভাব প্রতিটি যুগেই হয়েছে। তারা কখনো যুগের দোহাই দিয়ে, কখনো গোঁড়ামির কারণে, কখনো বা ক্ষমতার লোভে নবীদের আনীত দ্বীনকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আজও করে চলেছে। আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে যখন শু’আইব (আ.) মাদইয়ানবাসীকে দ্বীনের দিকে আহবান করেছিলেন তখন তারা ঠিক একই রকমের জবাব দিয়েছিল! তারা বলেছিল,
“তারা বলেছিল, ‘হে শু’আইব, তোমার সালাত কি এই আদেশ দেয় যে আমরা আমাদের দেবতাদের ইবাদত করা ছেড়ে দেবো যাদের ইবাদত আমাদের পিতৃপুরুষরা করতো? আর (তোমার সালাত কি এই আদেশ দেয় যে) আমাদের ধনসম্পদ নিয়ে যা কিছু করতে চাই তা করতে পারবো না?’, আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক” (সূরা হুদ, ১১:৮৭)
তাদের কথার সারমর্ম এই, “দেখ বাপু, তুমি বিরাট ভালো মানুষ! তুমি তোমার নামায নিয়ে থাকো, আমরা কাকে পূজা করবো, কাকে অনুসরণ করবো – এসবের মাঝে নাক গলাতে এসো না। তোমার ধর্ম নিয়ে তুমি থাকো, আমরা কিভাবে পয়সা কামাবো, খরচ করবো – এগুলোর মাঝে ধর্মকে টেনো না”।
তাদের এ চাতুরীপূর্ণ যুক্তির জবাব কী? ইসলাম কি আসলেই নামায-রোযার মাঝেই সীমাবদ্ধ নাকি এর থেকে বেশি কিছু? ধর্ম আর দুনিয়া কি পৃথক বিষয়? শু’আইব (আ.) এর কাহিনী থেকে আমরা ইনশা আল্লাহ এসব বিষয়ে জানতে পারবো। তাই “পথিকৃৎদের পদচিহ্ন: নবীদের জীবন” লেকচার সিরিজের ৯ পর্বে আলোচিত হবে খাতীবুল আম্বিয়া, শু’আইব (আ.) এর কাহিনী।
সবাইকে আমন্ত্রণ! পুরো লেকচার শুনিবেন ভাল লাগলে SUBSCRIBE করুন