শিশুর বুদ্ধির ও নৈতিকতার বিকাশ যেভাবে ঘটে || বিকাশ মনোবিজ্ঞান || Developmental Psychology Bangla ||

Description

শিশুর বোধশক্তি / বুদ্ধির বিকাশ

ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শিশু পরিবেশের সেসব বস্তুর সংস্পর্শে আসে তাদের বুঝতে পারে না। শিক্ষা ও পরিণমনের মাধ্যমে অর্থ বোঝার ক্ষমতা অবশ্যই অর্জন করতে হবে। বুদ্ধির বিকাশ ও অতীত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে শিশুরা বস্তুর অর্থ অনুধাবন করে। নূতন নূতন অর্থ বুঝতে পারার ফলে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে নূতনভাবে উপলব্ধি করে বস্তু, ব্যক্তি ও পরিস্থিতির অর্থ আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে নূতন নূতন ধারণার জন্ম হয়। অপরিচিত ব্যক্তি ও বস্তু যেভাবে শিশুর মনে ভীতির উদ্রেক করে ঠিক সেভাবেই চারপাশে পরিচিত ব্যক্তি বা বস্তুর উপস্থিতিতে তারা খুশী হয়। প্রথম অবস্থায় শিশুরা পরিবেশের কোনো একটি বিশেষ অংশের প্রতি মনোনিবেশ না করে বিরাজমান সম্পর্ক অনুধাবনপূর্বক এজাতীয় প্রতিক্রিয়া থেকে মনে হয় যে কচি শিশু পরিবেশের সব কিছু এক জাতীয় বস্তু বলে মনে করে। এ বিষয়টির সমর্থনে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ওয়াটসন (Watson) ৭৭ তাঁর বিখ্যাত পরীক্ষণে লক্ষ্য করেন যে শিশুর সামনে কয়েকবার সাদা খরগোস উপস্থাপনের সময় তীব্র একটি শব্দ করা হলে খরগোস সম্পর্কে শিশুর মনে ভীতির সঞ্চার করা সম্ভব। গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে ওয়াটসন

লক্ষ্য করেন যে শিশু পরীক্ষণ পাত্রটি যে কোন সাদ্য প্রাণী দেখলেই ভয় পেত। এ থেকে বোঝা যায় যে এ বয়সের শিশুকে সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ায় আবেগাভিভূত করা অত্যন্ত সহজ।

৪.২১ নৈতিক বিকাশ

বিকাশ মনোবিজ্ঞানীদের মতে মূল্যবোধ ও বিবেকের মাপকাঠিতে দু'বছরের শিশুর আচরণ মূল্যায়ন করা যাবে না। অতএব তাদের নীতি পরায়ণ বা দুর্নীতি পরায়ণ শিশু আচরণ নৈতিক আদর্শ দ্বারা পরিচালিত না হওয়ায় নৈতিকতাহীন ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে মা-বাবা ও আরও পরে শিক্ষকমন্ডলী ও সঙ্গীসাথীর কাছ থেকে চরিত্র-গঠনকারী নীতিমালা বলতে কি বোঝায় তা বুঝতে শেখে ও অনুসরণ করতে চেষ্টা করে।

নৈতিক আদর্শ সমৃদ্ধ আচরণ শিখতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। অবশ্য এ আচরণের সূত্রপাত হয় দু'বছর বয়সে এবং তারই অনুসরণে কালক্রমে শিশুরা নিজ নিজ নীতিমালা গড়ে তোলে ও সে অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করতে সচেষ্ট হয়।

অপরিণত বুদ্ধির কারণে একটি কাজ অন্যের ক্ষতিসাধন বা মঙ্গল বয়ে আনছে কিনা তা বিবেচনা করার পরিবর্তে কাজটি তাকে আনন্দ দিচ্ছে অথবা দিচ্ছে না সে অনুযায়ী কাজের ফলাফল নির্ণয় করে। অতএব, একটি কাজ এ বয়সের শিশুদের কাছে অবৈধ বিবেচিত হয় তখন যখন সেটি তাদের মনে আনন্দের সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়। সঠিক বা ভুল এরকম নির্দিষ্ট আদর্শ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ শিশুর মনে সেকারণে অনুশোচনা বা গ্লানির সঞ্চার হয় না। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার বলতে কি বোঝায় এরা তা জানে না সে কারণে অন্যের জিনিস নিলে কোন অনুশোচনার উদ্রেক হয় না।

পিয়াজের মতবাদ অনুযায়ী দু'বছরের শিশু নৈতিকতা বিকাশের যে প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করে তাকে "বাধ্যতা প্রসূত নৈতিকতা” (morality by constraint) বলা যায়। নৈতিকতা বিকাশের তিনটি পর্যায়ের এটি অন্যতম। এরকম নৈতিকতা বোধ সাত আট বছরের বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে যুক্তি অথবা বিবেচনা ছাড়াই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে নিয়মকানুন অনুসরণ।

#শিশুরবুদ্ধিরবিকাশ
#শিশুকেবুদ্ধিমানতৈরিকরার


#বিকাশমনোবিজ্ঞান

Details

375 Views
শিশুর বোধশক্তি / বুদ্ধির বিকাশ

ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শিশু পরিবেশের সেসব বস্তুর সংস্পর্শে আসে তাদের বুঝতে পারে না। শিক্ষা ও পরিণমনের মাধ্যমে অর্থ বোঝার ক্ষমতা অবশ্যই অর্জন করতে হবে। বুদ্ধির বিকাশ ও অতীত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে শিশুরা বস্তুর অর্থ অনুধাবন করে। নূতন নূতন অর্থ বুঝতে পারার ফলে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে নূতনভাবে উপলব্ধি করে বস্তু, ব্যক্তি ও পরিস্থিতির অর্থ আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে নূতন নূতন ধারণার জন্ম হয়। অপরিচিত ব্যক্তি ও বস্তু যেভাবে শিশুর মনে ভীতির উদ্রেক করে ঠিক সেভাবেই চারপাশে পরিচিত ব্যক্তি বা বস্তুর উপস্থিতিতে তারা খুশী হয়। প্রথম অবস্থায় শিশুরা পরিবেশের কোনো একটি বিশেষ অংশের প্রতি মনোনিবেশ না করে বিরাজমান সম্পর্ক অনুধাবনপূর্বক এজাতীয় প্রতিক্রিয়া থেকে মনে হয় যে কচি শিশু পরিবেশের সব কিছু এক জাতীয় বস্তু বলে মনে করে। এ বিষয়টির সমর্থনে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ওয়াটসন (Watson) ৭৭ তাঁর বিখ্যাত পরীক্ষণে লক্ষ্য করেন যে শিশুর সামনে কয়েকবার সাদা খরগোস উপস্থাপনের সময় তীব্র একটি শব্দ করা হলে খরগোস সম্পর্কে শিশুর মনে ভীতির সঞ্চার করা সম্ভব। গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে ওয়াটসন

লক্ষ্য করেন যে শিশু পরীক্ষণ পাত্রটি যে কোন সাদ্য প্রাণী দেখলেই ভয় পেত। এ থেকে বোঝা যায় যে এ বয়সের শিশুকে সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ায় আবেগাভিভূত করা অত্যন্ত সহজ।

৪.২১ নৈতিক বিকাশ

বিকাশ মনোবিজ্ঞানীদের মতে মূল্যবোধ ও বিবেকের মাপকাঠিতে দু'বছরের শিশুর আচরণ মূল্যায়ন করা যাবে না। অতএব তাদের নীতি পরায়ণ বা দুর্নীতি পরায়ণ শিশু আচরণ নৈতিক আদর্শ দ্বারা পরিচালিত না হওয়ায় নৈতিকতাহীন ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে মা-বাবা ও আরও পরে শিক্ষকমন্ডলী ও সঙ্গীসাথীর কাছ থেকে চরিত্র-গঠনকারী নীতিমালা বলতে কি বোঝায় তা বুঝতে শেখে ও অনুসরণ করতে চেষ্টা করে।

নৈতিক আদর্শ সমৃদ্ধ আচরণ শিখতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। অবশ্য এ আচরণের সূত্রপাত হয় দু'বছর বয়সে এবং তারই অনুসরণে কালক্রমে শিশুরা নিজ নিজ নীতিমালা গড়ে তোলে ও সে অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করতে সচেষ্ট হয়।

অপরিণত বুদ্ধির কারণে একটি কাজ অন্যের ক্ষতিসাধন বা মঙ্গল বয়ে আনছে কিনা তা বিবেচনা করার পরিবর্তে কাজটি তাকে আনন্দ দিচ্ছে অথবা দিচ্ছে না সে অনুযায়ী কাজের ফলাফল নির্ণয় করে। অতএব, একটি কাজ এ বয়সের শিশুদের কাছে অবৈধ বিবেচিত হয় তখন যখন সেটি তাদের মনে আনন্দের সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়। সঠিক বা ভুল এরকম নির্দিষ্ট আদর্শ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ শিশুর মনে সেকারণে অনুশোচনা বা গ্লানির সঞ্চার হয় না। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার বলতে কি বোঝায় এরা তা জানে না সে কারণে অন্যের জিনিস নিলে কোন অনুশোচনার উদ্রেক হয় না।

পিয়াজের মতবাদ অনুযায়ী দু'বছরের শিশু নৈতিকতা বিকাশের যে প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করে তাকে "বাধ্যতা প্রসূত নৈতিকতা” (morality by constraint) বলা যায়। নৈতিকতা বিকাশের তিনটি পর্যায়ের এটি অন্যতম। এরকম নৈতিকতা বোধ সাত আট বছরের বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে যুক্তি অথবা বিবেচনা ছাড়াই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে নিয়মকানুন অনুসরণ।

#শিশুরবুদ্ধিরবিকাশ
#শিশুকেবুদ্ধিমানতৈরিকরার


#বিকাশমনোবিজ্ঞান

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার