ব্যক্ত বিষয় ও অব্যক্ত চিন্তা
দেখতেই পাচ্ছেন আমাদের 'ভুল' সংক্রান্ত অনুসন্ধান একেবারে নিষ্ফল হয়নি। দেখা যাচ্ছে ঐ অনুসন্ধানের ফলে আমরা দুটি সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি: ১. স্বপ্ন-উপাদনের প্রকৃতি সংক্রান্ত ধারণা ও ২. স্বপ্ন-বিশ্লেষণের কৌশল। স্বপ্ন- উপাদানের ধারণা হচ্ছে এইরকম: এটি প্রাথমিক বা অবশ্য প্রয়োজনীয় কোনো জিনিশ নয় যাকে 'আসল চিন্তা' বলা যাবে, বরং এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কোনো কিছুর পরিবর্ত' বা বদলি। ঠিক যেরকম 'ভুল'-এর তলদেশে প্রচ্ছন্ন থাকে একটি গুঢ় ইচ্ছা, তেমনই যে-জ্ঞান স্বপ্নদ্রষ্টার আছে কিন্তু যার অস্তিত্ব সম্পর্কে' তিনি অচেতন, সেই জ্ঞানের বদলি বা পরিবর্ত' হচ্ছে এই স্বপ্ন-উপাদান। আমরা আশা করি, এই ধারণাটিকে স্বপ্ন সম্পর্কে সামগ্রিকভাবেই কাজে লাগাতে পারবো, যার একাধিক বা বহু এইধরনের উপাদান আছে। আমাদের পদ্ধতি হচ্ছে অন্যান্য পরিবর্ত বা বদলি ধারণাকে স্বাগত জানানো, যাদের সাহায্যে আমরা বুঝে নিতে পারবো তাদের নিচে কী লুকিয়ে আছে, যা শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন-উপাদানগুলির সংশ্লিষ্ট অবাধ অনুষঙ্গ প্রক্রিয়ার সাহায্যে চেতনায় উঠে আসবে।
-স্বপ্ন ব্যাখ্যার নিয়মাবলী;
এবার আমি আমাদের শব্দ-ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন ঘটাবো যাতে মধ্যে ব্যাপ্তি আসে। 'লুকিয়ে থাকা', 'অগম্য' বা 'আসল'-এর পরিবর্তে আমরা আরেকটু পরিষ্কারভাবে বলছি: 'স্বপ্নদর্শীর সচেতন মনের কাছে 'অগম্য' অথবা 'নিজ্ঞান'। এর দ্বারা বিস্মৃত শব্দ বা ভুলের নিচে শায়িত গোপন ইচ্ছার উল্লেখ ক'রে আমরা যা বোঝাতে চাইছি, তা হ'লো এই নিজ্ঞান, আসলে 'এই মুহূর্তের জন্য নিজ্ঞান', (অর্থাৎ এই মুহূর্তের জন্য যা আমার চেতনা বা জানার বাইরে)। এরই বিপরীতে আমরা স্বপ্ন- উপাদানগুলিকে কিংবা অনুষঙ্গ প্রক্রিয়ার সাহায্যে প্রাপ্ত পরিবর্ত' বা বদলি ধারণাগুলিকে বলতে পারি 'সচেতন'। এই সমস্ত শব্দের অবশ্য কোনো তাত্তিক গুঢ়ার্থ' নেই, আর 'নিজ্ঞান' শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে বর্ণনা ও বোঝার সুবিধের জন্য।
এবার স্বপ্নের কেবলমাত্র একটি উপাদান থেকে যদি গোটা স্বপ্নের দিকেই আমাদের ধারণাকে সরিয়ে নিয়ে যাই, তাহলে দেখা যাবে স্বপ্ন হচ্ছে নিজ্ঞান কোনো কিছুর বিকৃত পরিবর্ত' বা বদলি, আর স্বপ্ন-ব্যাখ্যা হচ্ছে ঐ নিশ্চেতন বা চেতনা-বহির্ভূত নিজ্ঞান চিন্তাকে আবিষ্কার করা। কাজেই স্বপ্ন-ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমরা তিনটি নিয়মের বা সূত্রের খোঁজ পাচ্ছি।
১. আমরা স্বপ্নের উপরিভাগের বা ব্যক্ত স্তরের অর্থ নিয়ে মাথা ঘামাবো না, তা সেটি যতই যুক্তিসঙ্গত বা উদ্ভট হোক, স্পষ্ট কিংবা জট-পাকানো হোক। কোনো ক্ষেত্রেই এটির মধ্যে সেই সব নিজ্ঞান চিন্তা নেই, যাদের আমরা খুজছি। (অবশ্য এই নিয়মের কিছু স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা আমাদের, পরে, চোখে পড়বে)।
২. স্বপ্নের প্রতিটি উপাদানের জন্য বদলি ধারণাগুলিকে আহ্বান বরার মধ্যেই আমাদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তাদের নিয়ে আলাদাভাবে কিছু ভাবার দরকার নেই, তাদের মধ্যে এমন কিছু আছে যা মানানসই হতে পারে কাঁনা অথবা তারা আমাদের স্বপ্ন-উপাদান থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কীনা, এসব নিয়েও ভাবার দরকার নেই।
৩ আমাদের অবশ্যই অপেক্ষা ক'রে থাকতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা যাদের খুজছি সেইসব লুকনো চিন্তা আপনা থেকেই আমাদের সামনে আবির্ভূত হয়, যেমন আগের পরীক্ষায় বিস্মৃত শব্দ 'মোনাকো' আবির্ভূত হয়েছিল। এবার আমরা বুঝতে পারছি, স্বপ্নের পুরোপুরি বা কিছুটা আমাদের মনে পড়ছে কীনা, কিংবা তাদের ঠিকঠাক মনে পড়ছে কীনা, এসব কিছুই এখানে অবান্তর।
ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে 'প্রতিরোধ'
আমাদের যে-স্বপ্ন মনে থাকছে, তা আসল জিনিশ-ই নয়, বরং তা এক বিকৃত, পরিবর্ত' বা বদলি কিছু, যা অন্যান্য বদলি ধারণাকে ডেকে নিয়ে আসার পর প্রকৃত চিন্তার দিকে আমাদের যেতে সাহায্য করছে মাত্র যাতে স্বপ্নের নিছে নিহিত নিজ্ঞান চিন্তাগুলি চেতনায় উঠে আসতে পারে। যদি আমাদের মনে পড়ায় কিছু ভুল থাকে, তাহলে বুঝতে হবে পরিবর্ত' বা বদলি ধারণার আরো কিছু, বিকৃতি ঘটেছে, যার পেছনে আবার কোনো অভিসন্ধি লুকিয়ে আছে।
#স্বপ্নের_ব্যাখ্যা
#স্বপ্ন
#স্বপ্ন_ব্যাখ্যার_নিয়ম
#সিগমুন্ড_ফ্রয়েড
#স্বপ্ন_ব্যাখ্যার_নিয়মাবলী