নিষিদ্ধ ইচ্ছা অস্বীকার
প্রথমে দেখুন, আমাদের ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি খাড়া করা খুব কঠিন নয়। আমাদের ফলাফল যে অতীব অপ্রিয় এবং ঘণ্য হতে পারে এ ব্যাপার নিয়ে আমরা ততটা মাথা ঘামাচ্ছি না। এর চেয়ে জোরালো বিরোধী যুক্তি হচ্ছে স্বপ্ন দেখার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যখন আমাদের ব্যাখ্যা-প্রদত্ত নিষিদ্ধ ইচ্ছা ঝোঁকগুলি তাঁদের উপর চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে জোরালো যুক্তিসঙ্গত আপত্তি জানান। "কী বল্লেন?' একজন প্রশ্ন করেন, "আপনি আমার স্বপ্ন থেকে প্রমাণ করতে চান, আমি বোনের বিয়েতে আর ভাইয়ের লেখাপড়ার পেছনে যে-টাকাপয়সা খরচ করেছি তা নিয়ে আমার মনে রাগ পুষে রেখেছি? এটা হতেই পারে না! আমার পুরো সময়টা আমি ভাই- বোনেদের জন্য খরচ করি, আমার জীবনের একমাত্র আগ্রহ হচ্ছে তাদের প্রতি আমার কর্তব্য করার, কেননা বাড়ির বড় ছেলে ব'লে আমি আমার মায়ের মৃত্যুশয্যায় কথা দিয়েছিলাম যে আমি তা-ই করব।" অথবা একজন মহিলা বলেন: "এ্যা? আমি চাই আমার স্বামীর মৃত্যু হোক? এ একেবারে জঘন্য মিথ্যে কথা! আমাদের বিবাহিত জীবন যে শুধু সুখের তা-ই নয়, আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না যে ওর মৃত্যু হলে আমি সবকিছুই হারাবো।" অথবা আরেকজন উত্তর দেন: "আপনি বলতে চান আমার বোনের সম্পর্কে আমার যৌন কামনা আছে? এটা একদম হাস্যকর। ওকে নিয়ে আমি মাথাই ঘামাই না, ওর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক' নেই, বহুবছর ধরে আমাদের মধ্যে একটিও কথা হয়েছে কিনা সন্দেহ।” এইসব ব্যক্তিরা যদি তাঁদের গোপন মনো- বাসনাকে স্বীকার কিংবা অস্বীকার করেন, তাহলেও আমরা খুব কিছু প্রভাবিত হবো না, বরং আমরা বলতে পারি এইসব বিষয় সম্পর্কে' তাঁরা সম্পূর্ণ 'অচেতন'। কিন্তু যখন তাঁরা আমাদের ব্যাখ্যার ঠিক বিপরীত ইচ্ছাটিকে তাঁদের মনে চিহ্নিত করেন এবং তাঁদের সারা জীবনের কাজ ও আচরণ দিয়ে প্রমাণ করেন যে আমরা যা বলছি, তার উল্টো ইচ্ছা বা ঝোঁকই তাঁদের জীবনে বরাবর প্রাধান্য পেয়েছে, তখনই মুশকিল হয়, আমরা অপ্রস্তুত হয়ে পাড়ি। তাহলে কি আমাদের এই স্বপ্ন-ব্যাখ্যার কাজটিকে অবিলম্বে বাতিল করা উচিত নয়, কেননা এ তো কেবলই এক উদ্ভট সিদ্ধান্ত থেকে অপর উদ্ভট সিদ্ধান্তের দিকে অন্তহীনভাবে এগিয়ে চলেছে? না, এখনো বাতিল করা ঠিক হবে না। এমনকী এই শক্তিশালী বিরোধী যুক্তিকেও শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা মুশকিল। যদি আমরা ধরে নিই যে মানসিক জীবনে নিজ্ঞান ঝোঁকগুলি আছে, তাহলে তার বিপরীত ঝোঁকগুলি সচেতন জীবনে প্রাধান্য বিস্তার করলেও কিছুই এসে যায় না, তাতে কিছুই প্রমাণ হয় না। বোধহয়, মনে পরস্পরবিরোধী ঝোঁক ও দ্বন্দ্বের একটি জায়গা আছে। ঠিক সেইজন্যই হয়তো একটি ঝোঁকের প্রাধান্য থাকলে তার বিপরীত ঝোকটির চরিত্র, নিজ্ঞানে তার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। কাজেই প্রথম আপত্তিগুলি বিবেচনা করলে দেখা যাবে তার থেকে শুধু এটটুকুই বোঝা যাচ্ছে যে স্বা-ব্যাখ্যার- ফলাফলগুলি সরল নয় এবং খুবই অপ্রীতিকর। প্রথম আপত্তির উত্তর হিশেবে আমরা বলতে পারি, আপনি যতই সরলতার অনুরাগী হোন, তার দ্বারা স্বপ্নের সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। প্রথমেই আপনার মনকে প্রস্তুত
করতে হবে জটিল সম্পর্ক'গুলিকে গ্রহণ করার জন্য। এবার দ্বিতীয় আপত্তির ক্ষেত্রে বলা যাক, আপনি স্পষ্টতই ভুল করছেন, এটা ভেবে যে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে কাউকে খুশি করা কিংবা অস্বস্তিতে ফেলা। কী এসে যায় যদি আপনি দেখেন যে স্বপ্ন-ব্যাখ্যার ফলাফলগুলি অপ্রিয়, দুর্গন্ধযুক্ত এবং জঘন্য। আমাদের অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে নিজেদের ভালো-লাগা মন্দ লাগাগুলিকে সসম্মানে পেছনে সরিয়ে রাখতে হবে, যদি আমরা এ পাথিবীর বাস্তব সত্য সম্পর্কে কিছু শিখতে চাই। যদি কোনো পদার্থবিজ্ঞানী আপনাকে প্রমাণ ক'রে দেখান যে ভূপৃষ্ঠে নিশ্চিতভাবে প্রাণ বিলুপ্ত হওয়ার বিশেষ দেরি নেই, তাহলে কি আপনি তাঁকে সাহস করে বলতে পারবেন, 'না না, এ হতে পারে না, কেননা এটা আমার ঠিক পছন্দ নয়'? আমার মনে হয় আপনি চুপ করেই থাকবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না অন্য আরেক পদার্থ- বিজ্ঞানী এসে দেখান যে প্রথমজনের প্রাথমিক ধারণায় এবং গণনায় ভুল ছিল। আপনার যা ভালো লাগে না তাকেই যদি খারিজ করতে চান তাহলে স্বপ্ন.....
#সিগমুন্ড_ফ্রয়েড
#মনোবিজ্ঞান
#স্বপ্নের_ব্যাখ্যা
#স্বপ্ন
#স্বপ্ন_দেখার_কারন
#মনঃসমীক্ষণ
#স্বপ্নের_সাথে_ঘুমের_সম্পর্ক
#স্বপ্নে_নিষিদ্ধ_ইচ্ছা