তরুণ বয়সের আবেগ ও সামাজিক অভিযোজন || Developmental Psychology Bangla || বিকাশ মনোবিজ্ঞান || Book ||

Description

তরুণ বয়সের সামাজিক অভিযোজন

সামাজিক অভিযোজন তরুণ-তরুণীর পক্ষে সবচেয়ে কঠিন একটি বিকাশমূলক কাজ। একদিকে কখনো যাদের সাথে মেলামেশা করেনি এমন ব্যক্তিদের সাথে অর্থাৎ বিপরীত লিঙ্গের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। অন্যদিকে পরিবারভুক্ত নয়, এমন ব্যক্তি যেমন প্রতিবেশী ও অন্যান্য বয়স্ক ব্যক্তি এবং স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে সামাজিক খেলাধুলা করতে হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মত সামাজিক আচরণ করার জন্য প্রয়োজন নূতন ধরনের সঙ্গতিবিধান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিভিন্ন দিক দিয়ে কঠিন অভিযোজনের বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ১. সমবয়স্ক দলের গভীর প্রভাব, ২. সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, ৩, নূতন সামজিক দলগঠন, ৪. বন্ধু নির্বাচনের জন্য নূতন মূল্যবোধ গড়ে তোলা, ৫. সামাজিক অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নুতন মূল্যবোধের উদ্ভব এবং ৬. নেতা নির্বাচনের জন্য নতুন গুণাবলী নির্ধারণ।
সমবয়স্ক দলের গভীর প্রভাব তরুণ ছেলেমেয়ে দিনের অধিকাংশ সময় গৃহের বাইরে বন্ধুদের সাথে অতিবাহিত করে। সেজন্য এদের মনোভাব, কথাবার্তা, আগ্রহ, চেহারা এবং আচরণের উপর পরিবারের চেয়ে সঙ্গীদের ব্যাপক প্রভাব প্রণিধানযোগ্য। যেমন অধিকাংশ তরুণ-তরুণী বুঝতে পারে যে, দলের কাছে প্রিয় ছেলেমেয়েরা যে পোশাক পরে সেরকম পোশাক পরলে দলীয় স্বীকৃতিলাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ৪৯,৫৭ একইভাবে মদ্যপান, মাদকদ্রব্য সেবন, ধুমপানের প্রতি তারা যে মনোভাব পোষণ করুক না কেন দলের সদস্যরা যদি পরীক্ষামূলকভাবে এসব সেবন করতে শুরু করে তবে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও এসব অভ্যেস গড়ে উঠতে পারে।

তরুণদের জীবনে সমবয়সী দলের ভূমিকার বর্ণনা প্রসঙ্গে হরকস এবং বেনিমফ (Horrocks and Benimoft) নিম্নোক্ত মন্তব্য করেনঃ

সমবয়স্ক সঙ্গীর দল তরুণ-তরুণীর জীবনে একটি বাস্তব জগৎ। এখানে তারা নিজেদের এবং অন্যান্য ব্যক্তিকে বুঝে নিতে পারে। সঙ্গীদের সাহচর্যে সবাই নিজের নিজের আত্মধারণা গড়ে তোলে আবার তার পূনর্মূল্যায়ন করে। সঙ্গী পরিবেষ্টিত জগতে সমবয়সী ছেলেমেয়ে একে অন্যের মূল্যায়ন করে। একজন তরুণ অথবা তরুণী আরেকজনের উপর বয়স্ক সমাজের দাবীর বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে না।

সমবয়স্ক সঙ্গীদের দলে একজন তরুণ অথবা তরুণী বয়সোপযোগী মূল্যবোধ সমৃদ্ধ পরিবেশে নিজেকে সামাজিক করতে শেখে। এরকম সমাজ তার স্বাধীনতা স্পৃহার সমর্থন জোগায়। আবার নেতৃত্ব গ্রহণের ক্ষমতা থাকলে ছেলেমেয় যথার্থভাবে তার সদ্ব্যবহার করার সুযোগ পায়। এ ছাড়াও সঙ্গীসাথীর দল একজন ছেলে কিম্বা মেয়ের জীবনে অবশ্যই অবসর-বিনোদনের প্রধান উপায় নির্দেশ করে। এসব কারণে তরুণ অথবা তরুণী এমন একটি দলের সদস্য হবে যেখানে কিছু সংখ্যক বন্ধু থাকবে যারা তাকে গ্রহণ করে নেবে এবং যাদের উপর সে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে পারে।

তারুণ্য শেষ হয়ে এলে ছেলেমেয়ের জীবনে সমবয়স্ক দলের গুরুত্ব কমে আসে। এর দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত প্রায় সব তরুণ-তরুণী নিজের ক্ষমতায় পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে চায় এবং দ্বিতীয়ত একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির যোগ্য স্বীকৃতি চায়। পূর্বে বর্ণিত আত্মপরিচয় উদঘাটন প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুটি ছেলেমেয়ে পরস্পরকে সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করার ফল দলের গুরুত্ব হ্রাস পায়। শৈশবের মত এমন বড় দলের সদস্য হয়ে কোনো কাজ করতে যুবক-যুবতী আর তেমন উৎসাহ বোধ করে না। সব

বিকাশ মনোবিজ্ঞান ২-৬





#বিকাশমনোবিজ্ঞান
#তরুণদেরসামাজিকঅভিযোজন

Details

332 Views
তরুণ বয়সের সামাজিক অভিযোজন

সামাজিক অভিযোজন তরুণ-তরুণীর পক্ষে সবচেয়ে কঠিন একটি বিকাশমূলক কাজ। একদিকে কখনো যাদের সাথে মেলামেশা করেনি এমন ব্যক্তিদের সাথে অর্থাৎ বিপরীত লিঙ্গের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। অন্যদিকে পরিবারভুক্ত নয়, এমন ব্যক্তি যেমন প্রতিবেশী ও অন্যান্য বয়স্ক ব্যক্তি এবং স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে সামাজিক খেলাধুলা করতে হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মত সামাজিক আচরণ করার জন্য প্রয়োজন নূতন ধরনের সঙ্গতিবিধান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিভিন্ন দিক দিয়ে কঠিন অভিযোজনের বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ১. সমবয়স্ক দলের গভীর প্রভাব, ২. সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, ৩, নূতন সামজিক দলগঠন, ৪. বন্ধু নির্বাচনের জন্য নূতন মূল্যবোধ গড়ে তোলা, ৫. সামাজিক অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নুতন মূল্যবোধের উদ্ভব এবং ৬. নেতা নির্বাচনের জন্য নতুন গুণাবলী নির্ধারণ।
সমবয়স্ক দলের গভীর প্রভাব তরুণ ছেলেমেয়ে দিনের অধিকাংশ সময় গৃহের বাইরে বন্ধুদের সাথে অতিবাহিত করে। সেজন্য এদের মনোভাব, কথাবার্তা, আগ্রহ, চেহারা এবং আচরণের উপর পরিবারের চেয়ে সঙ্গীদের ব্যাপক প্রভাব প্রণিধানযোগ্য। যেমন অধিকাংশ তরুণ-তরুণী বুঝতে পারে যে, দলের কাছে প্রিয় ছেলেমেয়েরা যে পোশাক পরে সেরকম পোশাক পরলে দলীয় স্বীকৃতিলাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ৪৯,৫৭ একইভাবে মদ্যপান, মাদকদ্রব্য সেবন, ধুমপানের প্রতি তারা যে মনোভাব পোষণ করুক না কেন দলের সদস্যরা যদি পরীক্ষামূলকভাবে এসব সেবন করতে শুরু করে তবে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও এসব অভ্যেস গড়ে উঠতে পারে।

তরুণদের জীবনে সমবয়সী দলের ভূমিকার বর্ণনা প্রসঙ্গে হরকস এবং বেনিমফ (Horrocks and Benimoft) নিম্নোক্ত মন্তব্য করেনঃ

সমবয়স্ক সঙ্গীর দল তরুণ-তরুণীর জীবনে একটি বাস্তব জগৎ। এখানে তারা নিজেদের এবং অন্যান্য ব্যক্তিকে বুঝে নিতে পারে। সঙ্গীদের সাহচর্যে সবাই নিজের নিজের আত্মধারণা গড়ে তোলে আবার তার পূনর্মূল্যায়ন করে। সঙ্গী পরিবেষ্টিত জগতে সমবয়সী ছেলেমেয়ে একে অন্যের মূল্যায়ন করে। একজন তরুণ অথবা তরুণী আরেকজনের উপর বয়স্ক সমাজের দাবীর বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে না।

সমবয়স্ক সঙ্গীদের দলে একজন তরুণ অথবা তরুণী বয়সোপযোগী মূল্যবোধ সমৃদ্ধ পরিবেশে নিজেকে সামাজিক করতে শেখে। এরকম সমাজ তার স্বাধীনতা স্পৃহার সমর্থন জোগায়। আবার নেতৃত্ব গ্রহণের ক্ষমতা থাকলে ছেলেমেয় যথার্থভাবে তার সদ্ব্যবহার করার সুযোগ পায়। এ ছাড়াও সঙ্গীসাথীর দল একজন ছেলে কিম্বা মেয়ের জীবনে অবশ্যই অবসর-বিনোদনের প্রধান উপায় নির্দেশ করে। এসব কারণে তরুণ অথবা তরুণী এমন একটি দলের সদস্য হবে যেখানে কিছু সংখ্যক বন্ধু থাকবে যারা তাকে গ্রহণ করে নেবে এবং যাদের উপর সে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে পারে।

তারুণ্য শেষ হয়ে এলে ছেলেমেয়ের জীবনে সমবয়স্ক দলের গুরুত্ব কমে আসে। এর দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত প্রায় সব তরুণ-তরুণী নিজের ক্ষমতায় পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে চায় এবং দ্বিতীয়ত একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির যোগ্য স্বীকৃতি চায়। পূর্বে বর্ণিত আত্মপরিচয় উদঘাটন প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুটি ছেলেমেয়ে পরস্পরকে সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করার ফল দলের গুরুত্ব হ্রাস পায়। শৈশবের মত এমন বড় দলের সদস্য হয়ে কোনো কাজ করতে যুবক-যুবতী আর তেমন উৎসাহ বোধ করে না। সব

বিকাশ মনোবিজ্ঞান ২-৬





#বিকাশমনোবিজ্ঞান
#তরুণদেরসামাজিকঅভিযোজন

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার