যৌন-আচরণের বিকাশ প্রক্রিয়া
একসাথে মেলামেশার সময় একজন ছেলে অথবা মেয়ে হিসাবে সবাই পরিণত আচরণ করবে বলে আশা করা হয়। সেজন্য এ বয়সে শৈশবের তুলনায় যৌন-আচরণের বিভিন্ন দিক ও সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা এদের অবশ্যই অর্জন করতে হবে। সামাজিক প্রত্যাশা পূর্ণ করার তাগিদে ছেলেমেয়ে যৌনবিষয় সম্পর্কে আংশিকভাবে জানতে আগ্রহী হলেও প্রধানত নিজেদের যৌন-আগ্রহ এবং কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে এরা যৌন জ্ঞান লাভ করে।
যৌন-বিষয়ের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ মেটানোর জন্য ছেলেমেয়ে অনেক বেশী তথ্য সংগ্রহ করতে চায়। কোনো কোনো ছেলেমেয়ে মনে করে যে মা-বাবার কাছ থেকে জ্ঞাতব্য বিষয় সম্বন্ধে জানা যাবে। পরবর্তীকালে এ ধরনের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে এরা স্কুল কিম্বা কলেজে যৌন-স্বাস্থ্য বিষয়ক পাঠ্যক্রম গ্রহণ করে, সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে, যৌন-বিষয়ক বই পড়ে, অথবা হস্তমৈথুন, একে অন্যকে আদর করা কিম্বা সঙ্গমের আশ্রয় গ্রহণ করে। তারুণ্য উত্তীর্ণ হলে যৌন-বিষয়ক কৌতুহল নিবৃত্তির উপযুক্ত অনেক অভিজ্ঞতা তারা অর্জন করে।
তরুণ-তরুণীর যৌন জিজ্ঞাসা সম্বন্ধে যে গবেষণা হয়েছে তাতে দেখা গেছে যে মেয়েরা জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি, গর্ভপাত, গর্ভধারণ প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী। অপরদিকে ছেলেরা বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগ, সন্তোষজনিত আনন্দ, রতিক্রিয়া এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্বন্ধে জানতে চায়। ১৯.৯০ যৌন-আচরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. তরুণ-তরুণীর মেলামেশা ছেলেমেয়েদের মেলামেশার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করার যোগ্যতা অর্জন যৌন-আচরণ সংক্রান্ত প্রথম বিকাশমূলক কাজ। শৈশবের শেষ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ছেলে ও মেয়েদের নিজস্ব দল এবং লিঙ্গ নির্দিষ্ট দলীয় আগ্রহের প্রাধান্য, বয়ঃসন্ধির কালে বিপরীত লিঙ্গের সমবয়সীদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করার পর তারুণ্যে হৃদ্যতা গড়ে তোলা তরুণ-তরুণীর পক্ষে সহজ নয়।
#যৌনআচরণবিকাশ