একাধিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিল আফগান মিত্রদের দ্বারা সংঘটিত এই শিশু নির্যাতন দেখেও এড়িয়ে যেতে।[11] কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, এটি নাকি আফগানদের সংস্কৃতি। মার্কিন ঘাঁটির ভেতরে আফগান পুলিশদের ক্যাম্পে আনা কিশোরদের আর্তনাদ শুনেও আমেরিকান সৈন্যদের হস্তক্ষেপ করার অনুমতি ছিল না। ২০১২ সালে এমন একটি ঘাঁটিতেই নিহত হওয়া ল্যান্স কর্পোরাল গ্রেগরি বাকলি জুনিয়র তার বাবাকে এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন।[12] শুধু তাই নয়, যেসব মার্কিন সেনা এই অপরাধ থামানোর চেষ্টা করেছিলেন, উল্টো তাদেরকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ডার ড্যান কুইন এবং সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস চার্লস মার্টল্যান্ড একজন মার্কিন-সমর্থিত মিলিশিয়া কমান্ডারকে একটি ছেলেকে শেকল দিয়ে বেঁধে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করার অপরাধে মারধোর করেছিলেন। এই সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত হওয়ার বদলে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়।[13] মূলত তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আফগান মিলিশিয়াদের খুশি রাখতেই আমেরিকা এই ঘৃণ্য অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়েছিল।[14] অবশেষে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৬ বছর পর, ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে বাচ্চাবাজির জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির আইন প্রণয়ন করা হয়।[15]
বাস্তবতার নিরিখে ববি হাজ্জাজের দাবি
ইতিহাসের এই বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ থেকে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আফগানিস্তানের বর্তমান ইসলামী সরকার বরাবরই বাচ্চাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং শরিয়াহ আইনের মাধ্যমেই একে শক্তভাবে দমন করেছে। ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি যে সেক্যুলার আইন ও সেক্যুলার ডেমোক্রেসির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন, সেই আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার সরকারের আমলেই আফগানিস্তানে বাচ্চাবাজির সবচেয়ে ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছিল।8 সাধারণ ট্রাক চালকদের বাচ্চাবাজ বলে তিনি যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সুতরাং, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কোনো বিকৃত প্রথা দিয়ে একটি রাষ্ট্রকে বিচার করার আগে, সেই রাষ্ট্র উক্ত প্রথাটি দমনে ঐতিহাসিকভাবে কী ভূমিকা পালন করেছে, তার প্রকৃত তথ্য জেনে মন্তব্য করাই যৌক্তিক। ববি হাজ্জাজের দাবিটি তাই ঐতিহাসিকভাবে অসত্য এবং ফ্যাকচুয়ালি ভুল।