A

Author-Archive

June 20, 2026 10:18 AM • 34 views
প্রবন্ধ
ফ্যাসিবাদী হাসিনার লীগ প্রশাসন ও মিডিয়া নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ ছড়ায়। রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে মিথ্যাচারগুলো অবলীলায় করে যায়। নানা ধরনের আজগুবি কথাবার্তা মিডিয়া লিখতে থাকে। চুক্তিভিত্তিক বিয়ে, সাময়িক বিয়ে এই জাতীয় ডাহা মিথ্যা কথা তারা একের পর এক প্রচার করে যায়। অথচ বাস্তবতা আদৌ এমন ছিল না।
আমাদের বিয়ে ছিল সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত ইসলামী বিয়ে। সাময়িক অথবা মুতা বিয়ের কনসেপ্ট হাসিনার তৈরি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।
একজন ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করা কি অপরাধ? এটাকে কোন দেশের পরিভাষায় কটাক্ষ করা যায়?
জান্নাত আরা (ঝর্না)র বর্তমান অবস্থান:
২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর আমাদের বিবাহ বন্ধন টিকে ছিল। কিন্তু ২০২১ এর ঘটনার পর পরস্পর কিছু মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে
এক পর্যায়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এমনকি আমার কারাবাসকালীন সময়েও তার ভরণপোষণসহ প্রাপ্য অধিকার আদায় করি।
চরিত্র হননের ঘৃণ্য প্রয়াস:
রাজনৈতিক কিংবা আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে অনেকেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার এই নির্লজ্জ মবসন্ত্রাস ও মিথ্যাচারের ঘটনাকে পুঁজি করে আমাকে ঘায়েল করার অপপ্রয়াস চালায়। তারা মনে করে কটুক্তি বা কটাক্ষ করলেই সত্য ন্যায় ইসলাম ও দেশ জাতির পক্ষে কথা বলতে আমি কুণ্ঠিত হয়ে যাব।
তাদের মনে রাখা উচিত, কুৎসা রটনা ও ঘায়েল করার ভয়াবহ অনেক পর্ব আমি আল্লাহর রহমতে পেছনে ফেলে এসেছি।
নারায়ণগঞ্জের আদালতে এমনও দিন গিয়েছে যে, আমার পক্ষে একজন আইনজীবীকে পর্যন্ত উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সকল পান্ডা আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেছে, হেনস্থা করেছে। চরম অসহায় অবস্থায় আদালতে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেলে রেখেছে।
আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি কখনো ভেঙ্গে পড়িনি। আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রেখেছি। পরবর্তীতে অবশ্য বিএনপি ও জামাতসহ আমাদের আইনজীবীদের বিপুল উপস্থিতিতে আওয়ামী গুন্ডাজীবীগুলো চুপসে গিয়েছিল।
সেই উত্তাল সময়েও গোয়েন্দা বাহিনী চরিত্র হননের ভয় দেখিয়ে আমাকে দিয়ে ইসলামের বিপক্ষে কিংবা আল্লামা বাবুনগরীর বিপক্ষে টু শব্দ উচ্চারণ করাতে পারেনি।
ব্ল্যাকমেইলিং করে কাউকে সত্য উচ্চারণে কুন্ঠিত করে ফেলার নির্মম অনেক ইতিহাস আমাদের জানা আছে।
আর তাই প্রথম দিন থেকেই এ ব্যাপারে আমি সজাগ ছিলাম। আমার একজন ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করার চেয়ে
সত্যের সম্মান অনেক ঊর্ধ্বে। কাজেই আমি রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জতার কাছে আত্মসমর্পণ করিনি এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার আত্মবিশ্বাসের পারদ অনেক উপরে আছে। এই সকল ছোটলোকদের কুৎসা রটনার পরোয়া করার সময় আমার নেই ইনশাআল্লাহ।
হাসিনার ভয়াবহ সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্রের সময় আমি পরিণাম নিয়ে কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত ছিলাম। আল্লাহ যখন সেই পরিস্থিতি থেকে আমাকে উত্তরণ করেছেন, এখন শুধু কুৎসা রটনাকারীদের পেছন টেনে ধরার অপকৌশলে ভড়কে যাওয়া কিভাবে সমীচীন হতে পারে?
আমার নামে পোষা মিডিয়া ও প্রশাসনলীগ আর গোয়েন্দারা মিলে যে সকল কল্পকাহিনী প্রচার করেছে তার যদি আদৌ কোন সত্যতা থাকতো, তাহলে আজও সেই হাফেজ শহিদুল ইসলাম আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে ভূমিকা পালন করতেন না। তাদের কথায় যদি সত্যের বিন্দুমাত্র লেশ থাকতো, তাহলে জান্নাত আরার ছেলেরা এখনো আমার সাথে সম্পর্ক বহাল রেখে চলত না।
আমি আমার আত্মপক্ষ সমর্থনে এই জাতীয় বয়ান আগেও দিয়েছি। মিডিয়াতেও কথা বলেছি। এটাও আমার জানা আছে যে, সবকিছু বলার পরেও যারা অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করতে পছন্দ করে, তারা কখনোই নিবৃত্ত হবে না।
আমি তো নগণ্য তুচ্ছ মানুষ! মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুন্যাত্মা স্ত্রী হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার চারিত্রে অপবাদ রটনাকারীরা কি আজও নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছে? এমনকি স্বয়ং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনের আয়াত নাজিল করে হযরত আয়েশার পক্ষে স্পষ্ট সাফাই গাওয়ার পরও একদল মুসলিম নামধারী লোক এবং সংখ্যায় তারা কোটি কোটি আজও কি এই পৃথিবীতে বিদ্যমান নেই? যাদের ঘৃণ্য শপথ হল তারা মদিনা শরীফ দখল করতে পারলে জান্নাতুল বাকি কবরস্তান থেকে হযরত আয়েশার মরদেহ তুলে তার উপর তাদের আরোপিত কুৎসামতে শাস্তি প্রয়োগ করবে! নাউজুবিল্লাহ!
এই ঘৃণ্য মানসিকতার লোকদের উপর আল্লাহর লানত!!
আল্লাহর নবীর স্ত্রী হয়েও কুৎসা রটনাকারীদের হাত থেকে নিস্তার পাননি। স্বয়ং মহান আল্লাহর কুরআন নাজিলের পরেও একশ্রেণীর মানুষের জবান বন্ধ হয়নি। এতে হযরত আয়েশার কি ক্ষতি হয়েছে? বরং সেই কপালপোড়া কুৎসা রটনাকারীদেরই ইহকাল পরকাল বরবাদ হয়েছে।
Back to Archive
Related Posts
Related Books (PDF)