আমার এলাকাতে ছোট্ট একটা দ্বীনী সার্কেল আছে। এলাকার ছেলেপেলে নিয়ে আর কি। তাদের নিয়ে যেসব কাজবাজ করি সেগুলো একটু লেখার চেষ্টা করছি। আমাদের কাজ অনলাইনে না, সবই অফলাইনে, নিজের এলাকায়।
আমরা প্রতিমাসে একটা পাঠচক্র করি। আমাদের পাঠচক্রের সিলেবাস আছে। হাই লেভেলের পাঠচক্র যেভাবে হয় সেভাবেই করার চেষ্টা করি আমরা। বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে আলোচনার চেষ্টা করা হয়। এলাকায় টুকটাক সামাজিক কাজ করার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে এলাকার চায়ের দোকানগুলোতে বসে নিজেরা বিল দিয়ে মানুষদের চা-পান খাওয়াই। এরপর তাদের সংসদীয় আলোচনায় ঢুকে পড়ি। নিজেরা নতুন কিছু বলি না। তাদের আলোচনাতেই আমাদের চিন্তাগুলো ঢেকে দিই। এলাকার ছেলেদেরকে নিয়ে মাঝে মাঝে পাশের একটা সুন্দর জায়গায় ঘুরতে যাই দলবেঁধে। ক্রিকেট-ফুটবল খেলি। আড্ডা দিই। নাশিদ গাই। তখন কোনো ভারি বয়ান হয় না। তখন শুধুই খেলতে যাই।
একটা ব্লাডগ্রুপ খুলেছি। সেখানে এলাকার কারও রক্ত লাগলে ব্যবস্থা করে দিই। পরিচিত লোকদের থেকে টাকা-পয়সা তুলে কয়েকজনকে সবজির ব্যবসাসহ ছোটখাট ব্যবসা ধরিয়ে দিয়েছি আমরা। এলাকার ভালো-খারাপ সব গ্যাংয়ের সাথেই সম্পর্ক রেখেছি, ফলে মারামারি লাগলেও আমাদেরকেই ডাকা হয় বিচার করতে বড় ভাই হিসেবে। তখন বড় ভাইদের মতোই বিচার-আচার করা হয়।
কাউকে আমরা শুরুতেই জিহাদ-শরীয়া-খিলাফাহ, আকিদার সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে বলি না। কিছুই বলি না এসব। প্রথমে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলি। এরপর তাকে কাছে টেনে মসজিদমুখী করি। তাবলীগে নিয়ে যাই। টাকা-পয়সা খরচ করি। দিল তৈরি করি। বুযুর্গদের সুহবতে নিয়ে যাই। আমলের জন্য প্রস্তুত করি। এরমধ্যে কয়েকজন এলাকার মাদরাসায় সময় দিয়ে টুকটাক ইলম শেখা শুরু করেছে। একটা দীর্ঘ সময় যাক, এরপর তাদেরকে প্রস্তুত করার সময় আসবে ইনশাআল্লাহ।
আমরা একটা গ্যাং হয়ে চলি। কোনো পশ লেভেলের দ্বীনী সার্কেল না, যেখানে শায়খের সাথে দেখা করতেই ঘাম ছুটে যাবে। আমরা বন্ধুর মতো চলি। ভাইয়ের মতো সম্পর্ক রাখি। কাঁধে হাত দিয়ে ঘুরি। হাত ধরে নামাজে যাই। মেসেজে দুষ্টুমি করি। আত্মার সম্পর্ক তৈরি না হলে কারও দিলে আপনি আপনার কথা ঢুকাতে পারবেন না। আপনাকে অধোরা ভেবে কেউ দূরে থাকলে আপনার দাওয়াত সে গ্রহণ করবে না।
টুকটাক কিছু বললাম, সব তো লেখার সুযোগ নেই।