ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের যে ক্রেজ এটার পেছনে নানা কারণই আছে।
.
ফুটবল জনমানুষের খেলা, যেখানে ক্রিকেটকে ধরা হয় এলিটদের খেলা। আবার যখন দেশে নতুন নতুন টিভি আসলো, তখন ম্যারাডোনা কিংবা পেলের হাত ধরে আমাদের এখানে ফুটবল ক্রেইজ প্রবেশ করলো।
.
তবে খেলা নিয়ে মাতামাতি আমাদের এখানে প্রবেশ করেছে ভিন্ন ফেইজে।
.
স্ত্রীর স্বর্ণ বিক্রি করে জার্মানির পতাকা বানানো, খেলা নিয়ে মানুষ খুন করে ফেলা থেকে নিয়ে সমাজ ও রাজনীতির সবকিছুকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপই প্রধান আলোচনা হয়ে যাওয়া—এগুলোকে আর সাধারণ বিনোদন বা নিরীহ ভালোবাসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
.
কিছু বছর দেখেই বাংলাদেশের মানুষের একটা সাধারণ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সে প্রতিদিনই নতুন ইস্যু খোঁজে, নতুন নতুন বিষয় নিয়ে সে ব্যস্ত থাকতে চায়। সে প্রবল আগ্রহ নিয়ে গালাগালি, কটাক্ষ, হাসি-তামাসা করার ইস্যু খুঁজতে চায়।
.
ফুটবল বিশ্বকাপও এর ব্যতিক্রম না।
.
এর পেছনে একটা কারণ হলো, আমাদের আসলে জাতিগতভাবে কোনো লক্ষ্য নেই। কালেক্টিভ পারপাস নেই। জাতিগতভাবে আমরা কী করতে চাই—সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। আমাদের মধ্যে চেপে বসে আছে anomie বা উদ্দেশ্যহীনতা।
.
বাংলাদেশের পয়েন্ট কী? কেন এ দেশটার এক্সিস্ট করতে হবে? এ মাটিতে থাকা মানুষগুলোর লক্ষ্য কী? কোনদিকে আমাদের অন্তিম নিয়তি?
.
এ প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব সেক্যুলার জাতিরাষ্ট্রের নেই। সেক্যুলারিজম এক প্রকার নিহিলিজম। সেক্যুলারিজমের কাছে মানুষের জীবনের আসলে কোনো পয়েন্ট নেই—subject to entropy decay and eventual death. এটাই জীবন।
.
ভেবে দেখুন, ২০২৪ এর অগাস্টে কি মানুষের অবস্থা এমন ছিল? সে সময় বিশ্বকাপ হলে কি এ পাগলামি করতো?
.
না। কেননা মানুষের সামনে অনেক বড় লক্ষ্য ছিল। মানুষ নিজেকে ইতিহাসের অংশ বলে মনে করছিল। সে মনে করেছিল, সে এক ঐতিহাসিক আমূল পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে সে জাতির ব্যাপারে রেসপন্সিবল। তার কিছু করার আছে।
.
কিন্তু সে দিন শেষ। মানুষ ফিরে গেছে আগের লাইফে। হীনমন্য, উদ্দেশ্যহীন, মূল্যহীন জীবনযাপনে। অন্তত সে নিজে সেটা মনে করে। এখন মানুষ রাতে ঘুমাতে গিয়ে নিজেকে নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। অন্তর ভরা আত্মতৃপ্তি নিয়ে ঘুম দিতে পারে না।
.
ইসলাম যেকোনো কওমকে উদ্দেশ্য দেয়, লক্ষ্য দেয়। ইসলাম মানুষকে এক গ্লোরিয়ার ফিউচারের স্বপ্ন দেখায়। এজন্য তাকে কুরবানি করতে উৎসাহী করে, কাজ করতে আগ্রহী করে। ইসলাম মানুষকে কওমের ভাগ্য গড়তে, লড়াই করতে প্রস্তুত করে।
.
ইসলাম কওমকে বলে দ্বীনের ঝান্ডা নিয়ে যেতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে।
.
আমাদের জাতির চিন্তা ও মানসিকতার র্যাডিকেল পরিবর্তন দরকার। ধ্বংস দরকার মানুষের সেন্সকে অবশ করে রাখা ভোগবাদ, বিনোদন ও মূল্যহীনতার। পতন দরকার এগুলোকে তৈরি করা, বাঁচিয়ে রাখা পোস্ট কলোনিয়ার এ জাতিরাষ্ট্রের।
.
এর জন্য দরকার—দাওয়াহ ও তাজদিদ। প্রতিষ্ঠা করতে হবে—আল্লাহর নিজাম।