অভ্যুত্থান একটা জাতির বুকে হয়ে থাকে এক নির্মমতম ট্র্যাজেডি।
অভ্যুত্থান মানে খুলির পাহাড়।
রক্তের নদী।
ধ্বংস, কান্না, হতাশা।
অভ্যুত্থান মানে শত ভাই হারা বোন, সন্তান হারা মা, বাবা হারা সন্তানের বুকফাটা হাহাকার।
গণহত্য/। গণকবর।
কিন্তু তা সত্ত্বেও অভ্যুত্থান পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম জিনিস।
অভ্যুত্থান রক্ত দিয়ে ধুয়ে সাফ করে দেয় অন্তরগুলোকে।
বুলেট ও গ্রেনেডের মুখে অন্তরের সেই অনুভূতি অন্যরকম পবিত্র।
অভ্যুত্থান তৈরি করে জাতীয় ঐক্য।
জীবনে দেখা না হওয়া মানুষগুলো সেদিন হয়ে যায় আত্মার ভাই, আত্মার বোন।
মা সন্তানকে প্রেরণ করে মৃত্যুর মুখে।
শহীদের রক্তে মাটি উর্বর হয়।
শত আঘাত, জুলুম ও অপমানের নেওয়া হয় চুড়ান্ত প্রতিশোধ।
আত্মমর্যাদার চূড়ান্ত বহিপ্রকাশ।
লোভ, লালসা, অহংকার থেকে নিয়ে সত্য গ্রহণে মনের সব বাঁধা ভেঙে যায় এক ধাক্কায়।
যুগ যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষণা করে যুদ্ধ।
মজলুম ফিরে পায় কন্ঠস্বর।
জুলুমের বিরুদ্ধে হয় মৃত্যুর বিজয়।
সুখের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার।
জালিম ও অহংকারির হয় চূড়ান্ত অসম্মান।
সম্মানিত, প্রচলিত বলে ধরে নেওয়া সব প্রতিষ্ঠিত ধারণা ভেঙেচুড়ে যায়।
অভ্যুত্থান মানে অসম্ভব সুন্দর এক ভবিষ্যতের অদম্য স্বপ্ন।
অভ্যুত্থান একটা জাতির ইতিহাসে তাই এক অনন্য স্মৃতি। সোনার অক্ষরে লেখা ইতিহাস।
ঠিক এই কারণেই অভ্যুত্থানের সাথে বেঈমানির মূল্য অনেক বেশি।
রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা কেনা মুক্তপ্রাণকে খাঁচায় বেঁধে রাখা যায় না।
আজ হোক বা কাল, সে তার পাওনা বুঝে নেয়।
ব্যর্থতা ও বেঈমানি খুলে দেয় আরেক অনুপম উত্থানের দুয়ার।
অভ্যুত্থান পরিণত হয় বিপ্লবে।
আযাদির স্বপ্ন বাস্তব হয়।
তারই অপেক্ষা...