এই শুক্রবার এডমিশনে এক রোগী এসেছিলো।
১০ টা মেট্রোনিডাজল (এক প্রকার এন্টিবায়োটিক) খেয়ে হস্পিটালে ভর্তি হয়েছে, সুইসাইড এটেম্পট। বাচ্চা মেয়েটা ক্লাস সেভেন এ পড়ে।
কেন সে আত্নহত্যা করতে চাইলো?
কারণ সে খেতে চায় না। না খেয়ে খেয়ে দুর্বল হয়ে গেছে। সামনে পরীক্ষা। খাওয়ার জন্য বাসায় বকা দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত।
বাচ্চা মেয়েটার থেকে জানতে চাইলাম সে খেতে চায় না কেন?
উত্তর টা অনেকটা এমন যে,
সে আগে অনেক মোটা ছিলো। তাকে তার সহপাঠিরা অনেক বেশি খ্যাপাতো। সে এরপর ওজন কমানোর জন্য খাওয়া কমায় দেয় দুই বছর হলো। সে এত দিনে অনেক ওজন কমিয়ে একদম শুকিয়ে গেছে। দুর্বল হয়ে গেছে। তবে তার খেতে একদম ভালো লাগে না, মনেও চায় না।
এই রোগটাকে আমরা বলি এনোরেক্সিয়া নার্ভোসা। কিন্তু ভয়াবহ ব্যাপারটা হলো আমাদের সমাজ বা সারাউন্ডিংস আজ এতটাই টক্সিক হয়ে গেছে যে বডি শেমিং এর কারণে ছোট বাচ্চারা পর্যন্ত আজ এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে।
যদি কোনো ভাবে বাচ্চাটা সুইসাইড এটেম্পট এ সফল হতো, তবে এই মৃত্যুর জন্য কতগুলো মানুষ সত্যিকার অর্থে দায়ী হতো?
আমরা আজকাল কেমন যেন হয়ে গেছি। আরেকজন কে পঁচিয়ে, অপমান করে নিজেরা সুখ খুঁজি, আনন্দ পাই। কিন্তু এতে আরেকজনের মেন্টাল হেলথ কতটা প্রভাবিত হতে পারে কিংবা এর আল্টিমেট কন্সিকুয়েন্স কি হতে পারে সেটা নিয়ে আমাদের আদৌ ধারণা আছে কি?
এই সমস্যাগুলোর সমাধান আসলে ইসলামে আছে। ইসলাম এই কনসেপ্টটাকেই নাকচ করে দেয় যে আরেকজনকে অপমান করে আনন্দ নিতে হবে, না,এটা সুস্পষ্ট হারাম। আরেকজন মুমিন এর জান মাল সম্মান সবকিছু আরেকজন মুসলিমের উপর হারাম (হদের ব্যাপারটা ভিন্ন)। কোনোভাবেই একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের সম্মানহানী হয় এমন কোনো কথা বলতে পারে না, এমন কোনো কাজ করতে পারে না।
তবে আমরা ইসলাম কে চাই না। আমরা খাশেহাতের গোলাম যে...
ডা: মুরতাজা শাহরিয়ার।
23 অক্টোবর 2022