অর্থনৈতিক ক্ষতি : জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বিভিন্ন ক্ষতির পাশাপাশি ওই সব উপকরণ ব্যবহারের জন্য জাতীয় রাজস্বে বিরাট ক্ষতিসাধিত হয়। এটাকে এক ধরনের অপচয় বললেও ভুল হবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অপব্যয় কর না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৭)। অন্যত্র আছে, ‘খাও ও পান কর, অপব্যয় কর না। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ : ৩১)।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষতির দিক হলো :
১. জন্মনিরোধক পিল একাধারে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সেবন করা ঠিক নয়। বয়স ৩৫ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেওয়া ভালো। নইলে এই বহুল প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হূদযন্ত্রের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তসঞ্চালনে অসুবিধাসহ জরায়ুমুখে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কারণও হতে পারে। এই বড়ি যদিও ততটা ওজন বৃদ্ধি করে না, তদুপরি হরমোন গ্রহণে কিছুটা ওজন বৃদ্ধি অনেক সময়েই লক্ষ্য করা যায়। (দৈনিক প্রথম আলো, ১ আগস্ট ২০১৭)
২. জন্ম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে জীবাণুনাশক ওষুধ, পিল, কনডম ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহারের ফলে তৎক্ষণাৎ কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু বেশ কিছু কাল যাবৎ এসব ব্যবহার করার ফলে মধ্যবর্তী বয়সে উপনীত হতে না হতেই নারীর দেহে স্নায়ুতন্ত্রীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যেমন- নিস্তেজ অবস্থা, নিরানন্দ, উদাসীনতা, রুক্ষ মেজাজ, বিষণ্নতা, নিদ্রাহীনতা, মস্তিষ্কের দুর্বলতা, হাত-পা অবশ, শরীরে ব্যথা, স্তনে সাইক্লিক্যাল ব্যথা, ক্যানসার, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, সৌন্দর্য নষ্ট ইত্যাদি। (মাসিক আত তাহরিক জানুয়ারি ২০১২)।
৩. সম্প্রতি স্লিমিং পিলের ক্ষতিকর নানা দিক নিয়ে উদ্বেগজনক এক তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সংস্থা। দ্য মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, স্লিমিং পিলে নানা ধরনের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। হূদরোগের সমস্যা থেকে শুরু করে চোখে কম দেখা, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাদের দাবি, এই ধরনের স্লিমিং পিলে নিষিদ্ধ এবং ক্ষতিকর নানা উপাদান থাকে। (দৈনিক ইত্তেফাক, ২ ডিসেম্বর ২০১৭)।
তানভীর হায়দার