𝒎

𝒎𝒖𝒔𝒍𝒊𝒎𝒂𝒕𝒓𝒊𝒙

June 19, 2026 05:50 AM • 77 views • Original: October 26, 2022 04:00 AM
ইসলামিক
দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে যেটা বুঝে এসেছে..

দেওবন্দ ধারার উদ্দেশ্য হলো, জনসাধারণকে আমলের ক্ষেত্রে শুধু আলেমনির্ভর না করে তাদেরও প্রয়োজনীয় বিষয়াদি শিখিয়ে আমলে উৎসাহিত করা, উদ্যোগী করা। সবকিছু হুজুর দিয়ে সমাধার চিন্তা মাথা থেকে দূর করা। এজন্য তারা সাধারণকে প্রয়োজনীয় ইলম শেখানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়, মক্তব বা নূরানি মাদ্রাসায় শেখায় এবং তাদের ওয়াজেও এ বিষয়ক প্রাধান্য থাকে। এজন্য দেওবন্দ বা কওমি ধারার ওয়াজে বিভিন্ন মাসাইল, সুন্নাহ, আমালের আলোচনা বেশি থাকে।

বিপরীতে..
বেরেলবি ধারা সাধারণকে শেখানোর ব্যাপারে খুব উৎসাহী না বরং সাধারণের কাজগুলোও অর্থের বিনিময়ে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, এলাকার মৌলবি, মুন্সি বা মাজারের খাদেম দ্বারা সম্পাদনে উৎসাহী বেশি। অর্থাৎ সাধারণের প্রয়োজনীয় কাজগুলাও মৌলবি করুক, সাধারণ ইলম-আমাল থেকে দূরে থাক। সাধারণের তেমন বেশি শেখার দরকারও নাই।

এজন্য তাদের ওয়াজেও এর প্রতিফলন ঘটে। মানুষের জীবনঘনিষ্ট প্রয়োজনীয় বিষয়াদির আলোচনা থাকে না। সুন্নাহর আলোচনা থাকে না, মাসাইলের আলোচনা থাকে না। আমালের আলোচনাও বেশিরভাগ থাকে না। বিপরীতে কারামত, অতিরঞ্জিত বিষয়ের উল্লেখ থাকে বেশি যার দ্বারা কোন বুজুর্গ বা আলেমের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা বোঝা যায়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট, মানুষ যাতে এরকম ব্যক্তিত্বের প্রতি আগ্রহী হয় এবং তাদের নজরানা দেয়। সাধারণ মানুষ নিজেরা আমলের বা জানার প্রয়োজনীয়তা তেমন নাই, অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাওয়ালা বুজুর্গ, আলেম, মুয়াজ্জিন, মুন্সির সাথে সম্পর্ক রাখলেই সাধারণের কাজ হয়ে যাবে। তারা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সন্তুষ্ট করলেই নিজেরা যা ইচ্ছে করুক, গুনাহ করুক সমস্যা নাই। সফল হয়ে যাবে।

আর এ দুই চিন্তা, কর্মের মাঝে সংঘর্ষের কারণও এটা। ভারতবর্ষের হিন্দু বেষ্টিত, মোঘলসূত্রে আগত শিয়া প্রভাবিত মুসলমান সমাজে বেরেলবি পন্থার প্রচলন ছিলো বেশি। নিজেরা বিমুখ থাকা আর পুরোহিতকে নজরানা দিয়ে নিজের দ্বীন পালন, অনেকটা হিন্দুদের মত।

বিপরীতে শাহ ওয়ালি উল্লাহ ধারার দেওবন্দি চিন্তা মানুষকে আমালে এনেছে, নিজের দ্বীন নিজে সমাধা, পালনের অভ্যাস করিয়েছে, মানুষকে দ্বীনের গভীরে প্রবেশ করিয়েছে।

যার কারণে পূর্বের মির্জা, মুন্সি, খোন্দকারদের কাজ, আয়ের ক্ষেত্র কমে গেছে। স্বার্থের টানাপোড়েনে সংঘাত, তিক্ততার সূত্রপাত যা আজও চলমান আছে।

তবে এটাও সত্য..
পূর্বের সে নিষ্ঠাপূর্ণ দেওবন্দি চেতনাও এখন পুরোপুরি সবার মাঝে নাই। তারাও বেরেলবিদের আদলে জনসাধারণের কাছ থেকে নজরানার বিভিন্ন পন্থা উদ্ভাবন করেছে, হ্যাঁ জনসাধারণকে খোদ দ্বীন মানা, শিখার সে ধারা আজো চালু আছে পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় দ্বীন বেচার পন্থাও অনেক তারা বের করেছে।

এক্ষেত্রে মুফতি ফয়জুল্লাহ রহিমাহুল্লহর অব্যর্থ কথা, চিন্তা একে ভালো ব্যাখ্যা করে। অর্থাৎ ওহাবিরা বিদাতি হয়ে যাবে, বিদাতিরা মুশরেক হবে। তিনি হয়তো হয়ে গেছে বলেছিলেন অর্থাৎ উনার জামানাতেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আর বর্তমান তো স্পষ্ট। বিদাতি-বেরেলবিদের বিরাট অংশ এখন শিয়ায় পরিণত হয়েছে অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ হতে বেরিয়ে গেছে। আর দেওবন্দিদের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিণত হয়েছে বিদাতিতে। তাদের ওয়ায়েজরাও এখন সুন্নাহ বাদ দিয়ে অতিপ্রাকৃত, অতিরঞ্জনের বুজরুকি ওয়াজ করে সাধারণকে সুন্নাহ বাদ দিয়ে ধর্মীয় পুরোহিতের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার দিকে আকৃষ্ট করে। পূর্বেকার কুরআন-সুন্নাহর নিখাদ কথা বাদ দিয়ে জাল রেওয়ায়েত, ইসরাইলি কাহিনী দিয়ে শ্রোতা আকৃষ্ট করে।

মোল্লা নিজামুদ্দীন
25/10/2022
Back to Archive