পৃথিবীর মানুষ আল্লাহর দ্বীনের বিধান থেকে যত দূরে সরে জাহিলিয়াতের অন্ধকারের অতল গভীরের দিকে যাত্রা করবে, তারা ইসলামের বিধানগুলোর ততই মুখাপেক্ষী হবে। বর্তমান মানবসমাজ সেই মাছের মত ছটফট জীবন যাপন করছে, যার জীবন একমুষ্টি পানির ছোঁয়া পেতে তারপাচ্ছে। সেই জমিনের ন্যায় চৌচির হয়ে আছে, যেই জমিন আসমান থেকে এক ফোটা বৃষ্টির পানি অধিগ্রহণের জন্য মরিয়া হয়ে আছে। মানবজীবনে সেই প্রশান্তিময় বারিশধারা হল ইসলামী শরীয়ত। একমাত্র ইসলামী শরীয়তের ছোঁয়াতেই অস্থির মানবহৃদয়গুলো প্রশান্তি লাভ করতে পারে।
আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববাসী আজ তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নেয়ামত থেকে বঞ্চিত। সেই নেয়ামত হচ্ছে ইসলামের সামগ্রিকতা। সাধারণ মুসলিম -অমুসলিম নির্বিশেষে সবার চিন্তা থেকে ইসলামের নাম প্রচ্ছন্ন হয়ে যায়নি। ইসলাম নামক ধর্মের কথা প্রায় সবাই নিজেদের জ্ঞানজগতে সংরক্ষণ করে। কিন্তু ইসলামের পূর্ণাঙ্গ মর্ম ও সামগ্রিক চিত্র আজ তাদের সকলের চিন্তা থেকেই প্রচ্ছন্ন বলা যায়। সেই জায়গা আজ দখল করে নিয়েছে মানুষের তৈরি বিভিন্ন বাতিল ধর্ম ও মতবাদ।
ফলে মানব সমাজ ইসলামের সুশীতল ছায়া থেকে মাহরুম হয়ে মানবরচিত বিভিন্ন মতবাদের কদর্যতায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা ভেবেছিল, এই মতবাদগুলো তাদেরকে শান্তি দিবে। তাদেরকে সম্মানিত করবে। কিন্তু ঘটেছে এর বিপরীত। মানবরচিত এসব মতবাদ তাদেরকে সামগ্রিক এক ধ্বংসলীলা উপহার দিয়েছে। তাদের মানববৈশিষ্ট্যকে মিটিয়ে দিয়ে পশুর পর্যায় নামিয়ে এনেছে। পরিবারিক বিপর্যয়, নৈতিক পদস্খলন, অর্থনৈতিক নিগ্রহ,সামাজিক মূল্যবোধ হ্রাস সহ সবকিছুই আজ অবস্থান করছে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়বাহ বিপদসীমায়।
বস্তুবাদী পুঁজিবাদী সভ্যতার কোন আবিষ্কার তাদেরকে এই বিপদসীমা থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। মানবরিচত কোন সমাধানও এই বিপদসীমার মোকাবেলা করার উপযোগীতা রাখে না। মুক্তি ও সমাধানের একমাত্র পথ হল ইসলাম। ইসলামের সামগ্রিকতা গ্রহণের মাধ্যমেই পৃথিবীবাসী বিদ্যমান প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণ লাভ করতে পারে।
বিশ্বপ্রকৃতি ইসলামকে ধারণ করার জন্য আজ ব্যাকুল হয়ে আছে। এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব হল ইসলামের সামগ্রিকতাকে ভালভাবে অনুধাবন করা এবং নিজের জীবনে তা ধারণ করা। পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রে সেটা প্রতিস্থাপন করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হওয়া। আজ মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সবার জন্যই ইসলামের সামগ্রিক রূপরেখা সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরী। যেন তারা মহান আল্লাহর তায়ালার দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরতে পারে, বিশ্ববাসীকে মুক্তির পথে পরিচালিত করতে পারে এবং পরকালেও চিরস্থায়ী শান্তির নিবাস জান্নাতে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে নিতে পারে।
তাই আসুন! আমরা সকলে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গভাবে জানি। আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থাকে নিজেদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে ধারণ ও প্রতিষ্ঠা করি। ইসলামের সামগ্রিক মর্মবাণীকে সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেয়ার মহান মেহনতে ঝাপিয়ে পড়ি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমদেরকে সেই তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইফতেখার সিফাত
26/10/2022