🔘 আধুনিক বস্তুবাদী প্যারাডাইম এবং ইসলামের অবস্থান 🔘
আধুনিক বস্তুবাদী প্যারাডাইম এবং ইসলামের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক অনেক পার্থক্য আছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সংঘাত তাই অবধারিত হয়ে দাঁড়ায়। মুসলিম হিসেবে এসব সংঘাত এবং সংকটের মোকাবেলা আমাদের করতে হয়। এই সংঘাত আমাদের সামনে আসে বিভিন্ন প্রশ্ন কিংবা দ্বন্দ্বের আকারে। কিন্তু মূল সমস্যার জায়গাটাতে আমরা মনোযোগ দেই না। সাধারণত আমাদের অ্যাপ্রোচ থাকে কেইস বাই কেইস বেইসিসে এই সংকটগুলোর মোকাবেলা করার।“বিজ্ঞান ওটা বলেছে কিন্তু কুরআনে এটা আছে। নাস্তিকরা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর জবাব কী?”
“আমার এক বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করেছে, মাদার তেরেসা অনেক ভালো মানুষ, সে কেন জাহান্নামে যাবে? এই প্রশ্নের জবাব কী?”
“ইসলামে পুরুষকে চার বিয়ে করার অনুমতি কেন দেয়া হয়েছে? এটা কি অধিকারক্ষুন্ন করা হলো না?”
“ইসলামে চোরের শাস্তি হিসেবে হাতকাঁটা, ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিধান আছে। এগুলো কি অমানবিক না?”ইসলামে চোরের শাস্তি হিসেবে হাতকাঁটা, ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিধান আছে। এগুলো কি অমানবিক না?”
প্রশ্ন করার সময় আমরাও প্রশ্নগুলো এভাবে করি। আর উত্তরগুলোও এভাবে আসে, প্রতিটা প্রশ্ন নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা মৌলিক একটা ব্যাপার এড়িয়ে যাই। দেখুন ওপরে আমি যে প্রশ্নগুলো আনলাম, এগুলোর সবগুলোর মধ্যে কিছু না অন্তর্নিহিত বিশ্বাস আছে। কিছু অবস্থানকে স্বতঃসিদ্ধ বা স্বপ্রমাণিত হিসেবে ধরে নেয়ার পর এই প্রশ্নগুলো করা হয়েছে। ইসলামের অবস্থানকে জাস্টিফাই করতে শুরু করার আগে, আমাদের এই অন্তর্নিহিত বিশ্বাসগুলোকে যাচাই করে দেখা দরকার। এই বিশ্বাসগুলোকে আমরা গ্রহণ করবো কি না, সেই সিদ্ধান্তেও আসা দরকার। তারপর নাহয় ইসলামের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করার কথা আসবে।যেমন ধরুন বিজ্ঞানের কোন অবস্থানের সাথে ইসলামের সংঘাত নিয়ে যখন বলা হচ্ছে, তখন ধরে নেয়া হচ্ছে বিজ্ঞান চূড়ান্ত সত্য। বিজ্ঞান যা বলে তা সর্বদা ১০০% সঠিক। কোন কিছু বিজ্ঞানীদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে সেটা সত্য হতে পারেনা। বিজ্ঞান সুনিশ্চিত জ্ঞান দেয়।
ভালো মানুষ কেন জাহান্নামে যাবে, এই প্রশ্ন করার সময় ‘ভালো মানুষ’ এর একটা সংজ্ঞা ধরে নেয়া হয়েছে। উত্তর দিতে হলে আগে দেখতে হবে সেই সংজ্ঞা সঠিক কি না। আগে আমাদের ‘ভালো মানুষ’ এর সংজ্ঞা এবং মাপকাঠি ঠিক করতে হবে। ভালো এবং মন্দের সংজ্ঞাও ঠিক করতে হবে।পুরুষের জন্য চার বিয়ের সুযোগ থাকা, উত্তরাধিকারে ছেলে এবং মেয়ের অংশ ভিন্ন হওয়া বা এ ধরনের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন আনলে আগে ঠিক করে নিতে ‘অধিকার’-এর কোন সংজ্ঞা এবং মাপকাঠি গ্রহণ করা হচ্ছে? অধিকারের অনেক অর্থ হয়। অনেক মাপকাঠি হয়। বিভিন্ন সংজ্ঞা এবং মাপকাঠি একে-অপরের সাথে সাংঘর্ষিকও হয়। প্রশ্নকারী কোন মাপকাঠি গ্রহণ করেছেন? আর মুসলিম হিসেবে আমরা কোনটা গ্রহণ করবো?