Playlist Audiobooks
Description
পাল সাম্রাজ্যের পতন
১। দেবপালের পরবর্তী পালরাজগণ
দেবপালের মৃত্যুর পর তিনশত বৎসর পর্যন্ত পালরাজবংশের ইতিহাস কবিবর্ণিত "পতন-অভ্যুদয়-বন্ধর পন্থায়” অগ্রসর হইয়াছিল। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়া চারিশত বৎসরকাল অতিবাহিত করিয়া অবশেষে এই প্রসদ্ধি রাজ্য ও রাজ- বংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ইহাই কালের স্বাভাবিক গতি। বরং এত সুদীর্ঘকালব্যাপী রাজত্বের দৃষ্টান্ত আর্যাবর্তের ইতিহাসে অতি বিরল, নাই বলিলেই চলে।
প্রচলিত ধারণা এই যে, দেবপালের মৃত্যুর পর বিগ্রহপাল সিংহাসনে আরোহণ করেন। দেবপাল ও বিগ্রহপালের সম্বন্ধ লইয়া পণ্ডিতগণের মধ্যে মতভেদ আছে। কাহারও মতে বিগ্রহপাল দেবপালের পুত্র। কিন্তু অধিকাংশ পণ্ডিতই মনে করেন যে, বিগ্রহপাল ধর্মপালের ভ্রাতা বাপালের পৌত্র ও জয়পালের পুত্র। এই মতই সমীচীন বলিয়া বোধ হয়। বিগ্রহপালের পুত্র নারায়ণপালের তাম্রশাসনে পাল- রাজগণের যে বংশাবলী বিবৃত হইয়াছে, তাহাও এই মতের সমর্থন করে। ইহাতে তৃতীয় শ্লোকে ধর্মপালের বর্ণনার পরে চতুর্থ শ্লোকে তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা বাক্- পালের এবং পঞ্চম শ্লোকে তাঁহার পুত্র জয়পালের উল্লেখ আছে। এই শ্লোকে কথিত হইয়াছে যে, জয়পাল ধর্মদ্বেষীগণকে যুদ্ধে বশীভূত করিয়া পূর্বজ দেবপালকে ভুবনরাজ্যসুখের অধিকারী করিয়া দিয়াছিলেন। পরবর্তী ষষ্ঠ শ্লোকে জয়পাল কর্তৃক উৎকল ও কামরূপ জয় বর্ণিত হইয়াছে। সপ্তম শ্লোকে বলা হইয়াছে, "তাঁহার অজাতশত্রুর ন্যায় বিগ্রহপাল নামক পুত্র জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন।" সংস্কৃত রচনারীতি অনুসারে 'তাঁহার' এই সর্বনাম পদ নিকটবর্তী বিশেষ্যপদকেই সূচিত করে। সুতরাং পঞ্চম ও সপ্তম শ্লোকের 'তাঁহার' এই সর্বনাম পদ যথাক্রমে বাপাল ও জয়পাল সম্বন্ধে প্রযুক্ত হইয়াছে, ইহাই সঙ্গত বলিয়া মনে হয়। অতএব বা পালের পুত্রই যে জয়পাল, এবং জয়পালের পুত্রই বিগ্রহপাল, উক্ত দুইটি শ্লোক হইতে এইরূপই সিদ্ধান্ত হয়। অপর পক্ষ বলেন যে, দেবপাল জয়পালের পূর্বজ বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন, সুতরাং জয়পাল দেবপালের কনিষ্ঠ সহোদর অর্থাৎ ধর্মপালের পুত্র। অতএব পঞ্চম ও সপ্তম শ্লোকের 'তাঁহার' এই সর্বনাম যথাক্রমে ধর্মপাল ও দেবপালের সম্বন্ধেই প্রযোজ্য। এই যুক্তি সঙ্গত বলিয়া মনে হয় না, কারণ পূর্বজ শব্দে কেবল জ্যেষ্ঠ বুঝায়, সহোদর অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে, এমন কোন কথা নাই। অপর পক্ষে ইহাও বিবেচ্য যে, ধর্মপাল বা দেবপালের তাম্রশাসনে বাক্পালের বা জয়পালের কোনও উল্লেখ নাই, সহসা নারায়ণপালের তাম্রশাসনে তাঁহাদের এই গুণ-ব্যাখ্যানের হেতু কি? ইহার একমাত্র সঙ্গত কারণ এই মনে হয় যে, বিগ্রহপাল ও তাঁহার বংশধরগণ দেবপালের ন্যায়সঙ্গত উত্তরা- ধিকারী ছিলেন না, সুতরাং তাঁহাদের পূর্বপুরুষগণের কৃতিত্ব দ্বারাই তাঁহাদের সিংহাসন অধিকারের সমর্থন করার প্রয়োজন ছিল। অন্যথা তিন পুরুষ পরে এই
প্রাচীন কীর্তিগাথা উদ্ধারের আর কোন যুক্তি পাওয়া যায় না। দেবপালের কোন পুত্র না থাকায় বিগ্রহপাল পিতৃব্যের সিংহাসন অধিকার করিয়াছিলেন, ইহা সম্ভব বলিয়া মনে হয় না;