প্রাচীন বাংলার রাজ্যশাসন পদ্ধতি|| Ancient history of Bengal || Bangla History|| বাংলাদেশের ইতিহাস ||

Description

রাজ্যশাসন-পদ্ধতি

১। প্রাচীন যুগ

গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বে রাজ্যশাসন-পদ্ধতি সম্বন্ধে কোন সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে প্রাচীন গ্রন্থে সূক্ষ্ম, পুঞ্জ প্রভৃতি জাতি এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উল্লেখ দেখিয়া অনুমান হয় যে, আর্যাবর্তের অন্যান্য অংশের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রথমে কয়েকটি বিশিষ্ট সংঘবদ্ধ জাতি বসবাস করিত এবং ইহা হইতেই রুমে রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়।

গ্রীক লেখকগণ গঙ্গরিডই রাজ্যের যে বর্ণনা করিয়াছেন, তাহাতে কোন সন্দেহ থাকে না যে, খীেষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দের পূর্বেই বাংলায় রাজতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ হইয়াছিল। কারণ রাজ্যশাসন-পদ্ধতি সুনিয়ন্ত্রিত ও বিশেষ শৃঙ্খলার সহিত বিধিবদ্ধ না হইলে এরুপ পরাক্রান্ত রাজ্যের উদ্ভব সম্ভবপর নহে। মহাভারতে উল্লিখিত হইয়াছে যে, বাংলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি মিলিত হইয়া বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করিতে চেষ্টা করিয়াছিল। তাহারা বিদেশী রাজ্যের সহিতও রাজনৈতিক সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছিল। ইহাও বাংলা দেশে রাজনৈতিক জ্ঞানের প্রসার ও প্রভাব সূচিত করে। রাজকুমার বিজয়ের আখ্যান সত্য হইলে বাংলাদেশে যে প্রজাশক্তি প্রভাবশালী ছিল, তাহা স্বীকার করিতে হইবে।

মৌর্যযুগের একখানি মাত্র লিপি মহাস্থানগড়ে অর্থাৎ প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনে পাওয়া গিয়াছে। ইহাতে একজন মহামাত্রের উল্লেখ আছে। এই লিপির প্রকৃত মম কি, তাহা লইয়া পণ্ডিতগণের মধ্যে মতভেদ আছে। দুর্ভিক্ষ বা অন্য কোন কারণবশত প্রজাগণের দুরবস্থা হওয়ায় সরকারী ভাণ্ডার (কোষাগার) হইতে দুঃস্থ লোকদিগকে শস্য ও নগদ টাকা ধার দিয়া সাহায্য করার আদেশই এই লিপিতে উক্ত হইয়াছে। খুব সম্ভবত মৌর্যগণের সুপরিচিত রাজ্যশাসনপদ্ধতি বাংলাদেশেও প্রচলিত ছিল।

২। গুপ্ত সাম্রাজ্য ও অব্যবহিত পরবর্তী যুগ

বাংলাদেশ গুপ্ত সাম্রাজ্যভুক্ত হইলেও ইহার এক অংশ মাত্র গুপ্ত সম্রাটগণের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে ছিল। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য এই অংশে বর্তমান কালের ন্যায় কতকগুলি নির্দিষ্ট শাসনবিভাগ ছিল। সর্বাপেক্ষা বড় বিভাগের নাম ছিল ভুক্তি। প্রত্যেক ভুক্তি কতকগুলি বিষয়, মণ্ডল, বীথি ও গ্রামে বিভক্ত ছিল। বঙ্গ- বিভাগের পূর্বে বাংলার যে অংশকে আমরা রাজসাহী বিভাগ বলিতাম, মোটামুটি তাহাই ছিল পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির সীমা। প্রাচীন বর্ধমান ভুক্তি ও বর্তমান বর্ধমান বিভাগও মোটামুটি একই বলা যাইতে পারে। বিষয়গুলি ছিল বর্তমান জিলার মত

। গুপ্ত সম্রাট স্বয়ং ভুক্তির শাসনকর্তা নিযুক্ত করিতেন; ই'হার উপাধি ছিল 'উপরিক-মহারাজ'। সাধারণত উপরিক-মহারাজই অধীনস্থ বিষয়গুলির শাসনকর্তা নিযুক্ত করিতেন, কিন্তু কোন কোন স্থলে স্বয়ং সম্রাট কর্তৃক তাঁহাদের নির্বাচনের.......

#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#বাংলা
#history
#ইতিহাস
#বাংলাদেশের_প্রাচীন_ইতিহাস

Details

471 Views
রাজ্যশাসন-পদ্ধতি

১। প্রাচীন যুগ

গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বে রাজ্যশাসন-পদ্ধতি সম্বন্ধে কোন সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে প্রাচীন গ্রন্থে সূক্ষ্ম, পুঞ্জ প্রভৃতি জাতি এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উল্লেখ দেখিয়া অনুমান হয় যে, আর্যাবর্তের অন্যান্য অংশের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রথমে কয়েকটি বিশিষ্ট সংঘবদ্ধ জাতি বসবাস করিত এবং ইহা হইতেই রুমে রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়।

গ্রীক লেখকগণ গঙ্গরিডই রাজ্যের যে বর্ণনা করিয়াছেন, তাহাতে কোন সন্দেহ থাকে না যে, খীেষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দের পূর্বেই বাংলায় রাজতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ হইয়াছিল। কারণ রাজ্যশাসন-পদ্ধতি সুনিয়ন্ত্রিত ও বিশেষ শৃঙ্খলার সহিত বিধিবদ্ধ না হইলে এরুপ পরাক্রান্ত রাজ্যের উদ্ভব সম্ভবপর নহে। মহাভারতে উল্লিখিত হইয়াছে যে, বাংলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি মিলিত হইয়া বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করিতে চেষ্টা করিয়াছিল। তাহারা বিদেশী রাজ্যের সহিতও রাজনৈতিক সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছিল। ইহাও বাংলা দেশে রাজনৈতিক জ্ঞানের প্রসার ও প্রভাব সূচিত করে। রাজকুমার বিজয়ের আখ্যান সত্য হইলে বাংলাদেশে যে প্রজাশক্তি প্রভাবশালী ছিল, তাহা স্বীকার করিতে হইবে।

মৌর্যযুগের একখানি মাত্র লিপি মহাস্থানগড়ে অর্থাৎ প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনে পাওয়া গিয়াছে। ইহাতে একজন মহামাত্রের উল্লেখ আছে। এই লিপির প্রকৃত মম কি, তাহা লইয়া পণ্ডিতগণের মধ্যে মতভেদ আছে। দুর্ভিক্ষ বা অন্য কোন কারণবশত প্রজাগণের দুরবস্থা হওয়ায় সরকারী ভাণ্ডার (কোষাগার) হইতে দুঃস্থ লোকদিগকে শস্য ও নগদ টাকা ধার দিয়া সাহায্য করার আদেশই এই লিপিতে উক্ত হইয়াছে। খুব সম্ভবত মৌর্যগণের সুপরিচিত রাজ্যশাসনপদ্ধতি বাংলাদেশেও প্রচলিত ছিল।

২। গুপ্ত সাম্রাজ্য ও অব্যবহিত পরবর্তী যুগ

বাংলাদেশ গুপ্ত সাম্রাজ্যভুক্ত হইলেও ইহার এক অংশ মাত্র গুপ্ত সম্রাটগণের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে ছিল। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য এই অংশে বর্তমান কালের ন্যায় কতকগুলি নির্দিষ্ট শাসনবিভাগ ছিল। সর্বাপেক্ষা বড় বিভাগের নাম ছিল ভুক্তি। প্রত্যেক ভুক্তি কতকগুলি বিষয়, মণ্ডল, বীথি ও গ্রামে বিভক্ত ছিল। বঙ্গ- বিভাগের পূর্বে বাংলার যে অংশকে আমরা রাজসাহী বিভাগ বলিতাম, মোটামুটি তাহাই ছিল পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির সীমা। প্রাচীন বর্ধমান ভুক্তি ও বর্তমান বর্ধমান বিভাগও মোটামুটি একই বলা যাইতে পারে। বিষয়গুলি ছিল বর্তমান জিলার মত

। গুপ্ত সম্রাট স্বয়ং ভুক্তির শাসনকর্তা নিযুক্ত করিতেন; ই'হার উপাধি ছিল 'উপরিক-মহারাজ'। সাধারণত উপরিক-মহারাজই অধীনস্থ বিষয়গুলির শাসনকর্তা নিযুক্ত করিতেন, কিন্তু কোন কোন স্থলে স্বয়ং সম্রাট কর্তৃক তাঁহাদের নির্বাচনের.......

#বাংলাদেশের_ইতিহাস
#historyofbengal
#বাংলা
#history
#ইতিহাস
#বাংলাদেশের_প্রাচীন_ইতিহাস

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার