বর্ম রাজবংশের ইতিহাস,বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার #ইতিহাস #বাংলাদেশের_ইতিহাস ১৩ তম পর্ব।

Description

বর্ম রাজবংশ

একাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে যখন পালরাজশক্তি ক্রমশঃ দুর্বল হইয়া পড়িতেছিল, তখন পূর্ববঙ্গে বর্ম-উপাধিধারী এক রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয়, একথা পূর্বেই বলা হইয়াছে। ঢাকা জিলার অন্তর্গত বেলাব গ্রামে প্রাপ্ত একখানি তাম্রশাসনই এই রাজবংশের ইতিহাসের প্রধান অবলম্বন। এই শাসনে বর্ম'রাজের বংশপরিচয়ে প্রথমে পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী ব্রহ্মা হইতে পুত্র-পৌত্রাদিক্রমে অত্রি, চন্দ্র, বুধ, পুরুরবা, আয়, নহয়, যযাতি ও যদদুদ, এবং যদুবংশে হরির অবতার কৃষ্ণের জন্মের উল্লেখ আছে। এই হরির বান্ধব অর্থাৎ জ্ঞাতি বর্মবংশ বৈদিক ধর্মের প্রধান পৃষ্ঠ- পোষক ছিলেন এবং সিংহপুরে রাজত্ব করিতেন। এই বংশীয় বজ্রবর্মা একাধারে বীর, কবি ও পণ্ডিত ছিলেন। তাঁহার পুত্র জাতবর্মা বহন যুদ্ধে জয়লাভ করিয়া সার্বভৌমত্ব লাভ করিয়াছিলেন। তিনি অঙ্গদেশে স্বীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করিয়া- ছিলেন, কামরূপ জয় করিয়াছিলেন, দিব্যের ভুজবল হতশ্রী করিয়াছিলেন, এবং গোবর্ধন নামক রাজাকে পরাজিত করিয়াছিলেন। প্রশস্তিকারের দ্ব্যর্থবোধক শ্লোকের এই উক্তি কতদূর সত্য তাহা বলা যায়া না। ঐ শ্লোকে ইহাও বলা হইয়াছে যে, তিনি কর্ণের কন্যা বীরশ্রীকে বিবাহ করিয়াছিলেন। ডাহলের কলচুরিরাজ কর্ণ যে পালরাজ্য আক্রমণ করিয়া বঙ্গদেশ পর্যন্ত অগ্রসর হইয়াছিলেন, এবং অবশেষে পালরাজ তৃতীয় বিগ্রহপালের সহিত স্বীয় কন্যা যৌবনশ্রীর বিবাহ দিয়াছিলেন, তাহা পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে। সুতরাং অসম্ভব নহে যে, জাতবর্মা কলচুরিরাজ গাঙ্গেয়দেব ও কর্ণের অধীনস্থ সামন্তরাজরূপে তাঁহাদের সঙ্গে পালরাজ্য আক্রমণ করেন, এবং অঙ্গদেশে পালরাজ ও বরেন্দ্রে কৈবর্তরাজ দিব্যের সহিত যুদ্ধে প্রবৃত্ত হন। তারপর কোন সুযোগে পূর্ববঙ্গে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করিয়া কামরূপ আক্রমণ করেন ও গোবর্ধন নামক বঙ্গদেশীয় কোন রাজার বিরুদ্ধে অভিযান করেন। কল- চুরিরাজ কর্ণের একখানি শিলালিপিতে (১০৪৮-৪৯ খীঃ) উক্ত হইয়াছে যে, তিনি পূর্বদেশীয় একটি রাজ্য ধ্বংস করিয়াছিলেন। ইহা হইতে কেহ কেহ অনুমান করেন যে চন্দ্রবংশর রাজ্য ধ্বংস করিয়া কর্ণ বজ্রবর্মাকে অথবা জাতবর্মাকে ঐ রাজ্যে অধিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। অবশ্য এ সকলই বর্তমানে অনুমানমাত্র, কারণ ইহার স্বপক্ষে বিশিষ্ট কোন প্রমাণ নাই। কিন্তু এইরূপ কোন অনুমানের আশ্রয় না লইলে সিংহপুর নামক ক্ষুদ্র রাজ্যের অধিপতি জাতবর্মা কেবলমাত্র নিজের বাহুবলে অঙ্গ, কামরূপ ও বরেন্দ্রে বিজয়াভিযান করিয়া বঙ্গে এক স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন,

এরুপ বিশ্বাস করা কঠিন। বর্ম'রাজগণের আদিম রাজ্য সিংহপুর কোথায় ছিল, এবিষয়ে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতভেদ আছে। পঞ্জাবের একখানি শিলালিপিতে সিংহপুরের যাদববংশ- সম্পৃতা জালন্ধরের এক রানীর কথা আছে, হিউয়েন্থসাংও পঞ্জাবে এক সিংহপার রাজ্যের উল্লেখ করিয়াছেন। কেহ কেহ অনুমান করেন, ইহাই পূর্ববঙ্গের যাদব- বংশীয় বর্ম'রাজগণের আদি বাসভূমি। কলিঙ্গেও এক সিংহপুর রাজ্য ছিল; এই স্থান বর্তমানে সিঙ্গপুরম্ নামে পরিচিত এবং চিকাকোল ও নবাসন্নপেতার মধ্য- স্থলে অবস্থিত। সিংহলদেশীয় গ্রন্থে যে বিজয়সিংহের আখ্যান আছে।


#বাংলাদেশের_ইতিহাস #historyofbengal #অডিওবুক #history #বাংলা #বর্ম_রাজবংশ
#ইতিহাস

Details

396 Views
বর্ম রাজবংশ

একাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে যখন পালরাজশক্তি ক্রমশঃ দুর্বল হইয়া পড়িতেছিল, তখন পূর্ববঙ্গে বর্ম-উপাধিধারী এক রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয়, একথা পূর্বেই বলা হইয়াছে। ঢাকা জিলার অন্তর্গত বেলাব গ্রামে প্রাপ্ত একখানি তাম্রশাসনই এই রাজবংশের ইতিহাসের প্রধান অবলম্বন। এই শাসনে বর্ম'রাজের বংশপরিচয়ে প্রথমে পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী ব্রহ্মা হইতে পুত্র-পৌত্রাদিক্রমে অত্রি, চন্দ্র, বুধ, পুরুরবা, আয়, নহয়, যযাতি ও যদদুদ, এবং যদুবংশে হরির অবতার কৃষ্ণের জন্মের উল্লেখ আছে। এই হরির বান্ধব অর্থাৎ জ্ঞাতি বর্মবংশ বৈদিক ধর্মের প্রধান পৃষ্ঠ- পোষক ছিলেন এবং সিংহপুরে রাজত্ব করিতেন। এই বংশীয় বজ্রবর্মা একাধারে বীর, কবি ও পণ্ডিত ছিলেন। তাঁহার পুত্র জাতবর্মা বহন যুদ্ধে জয়লাভ করিয়া সার্বভৌমত্ব লাভ করিয়াছিলেন। তিনি অঙ্গদেশে স্বীয় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করিয়া- ছিলেন, কামরূপ জয় করিয়াছিলেন, দিব্যের ভুজবল হতশ্রী করিয়াছিলেন, এবং গোবর্ধন নামক রাজাকে পরাজিত করিয়াছিলেন। প্রশস্তিকারের দ্ব্যর্থবোধক শ্লোকের এই উক্তি কতদূর সত্য তাহা বলা যায়া না। ঐ শ্লোকে ইহাও বলা হইয়াছে যে, তিনি কর্ণের কন্যা বীরশ্রীকে বিবাহ করিয়াছিলেন। ডাহলের কলচুরিরাজ কর্ণ যে পালরাজ্য আক্রমণ করিয়া বঙ্গদেশ পর্যন্ত অগ্রসর হইয়াছিলেন, এবং অবশেষে পালরাজ তৃতীয় বিগ্রহপালের সহিত স্বীয় কন্যা যৌবনশ্রীর বিবাহ দিয়াছিলেন, তাহা পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে। সুতরাং অসম্ভব নহে যে, জাতবর্মা কলচুরিরাজ গাঙ্গেয়দেব ও কর্ণের অধীনস্থ সামন্তরাজরূপে তাঁহাদের সঙ্গে পালরাজ্য আক্রমণ করেন, এবং অঙ্গদেশে পালরাজ ও বরেন্দ্রে কৈবর্তরাজ দিব্যের সহিত যুদ্ধে প্রবৃত্ত হন। তারপর কোন সুযোগে পূর্ববঙ্গে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করিয়া কামরূপ আক্রমণ করেন ও গোবর্ধন নামক বঙ্গদেশীয় কোন রাজার বিরুদ্ধে অভিযান করেন। কল- চুরিরাজ কর্ণের একখানি শিলালিপিতে (১০৪৮-৪৯ খীঃ) উক্ত হইয়াছে যে, তিনি পূর্বদেশীয় একটি রাজ্য ধ্বংস করিয়াছিলেন। ইহা হইতে কেহ কেহ অনুমান করেন যে চন্দ্রবংশর রাজ্য ধ্বংস করিয়া কর্ণ বজ্রবর্মাকে অথবা জাতবর্মাকে ঐ রাজ্যে অধিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। অবশ্য এ সকলই বর্তমানে অনুমানমাত্র, কারণ ইহার স্বপক্ষে বিশিষ্ট কোন প্রমাণ নাই। কিন্তু এইরূপ কোন অনুমানের আশ্রয় না লইলে সিংহপুর নামক ক্ষুদ্র রাজ্যের অধিপতি জাতবর্মা কেবলমাত্র নিজের বাহুবলে অঙ্গ, কামরূপ ও বরেন্দ্রে বিজয়াভিযান করিয়া বঙ্গে এক স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন,

এরুপ বিশ্বাস করা কঠিন। বর্ম'রাজগণের আদিম রাজ্য সিংহপুর কোথায় ছিল, এবিষয়ে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতভেদ আছে। পঞ্জাবের একখানি শিলালিপিতে সিংহপুরের যাদববংশ- সম্পৃতা জালন্ধরের এক রানীর কথা আছে, হিউয়েন্থসাংও পঞ্জাবে এক সিংহপার রাজ্যের উল্লেখ করিয়াছেন। কেহ কেহ অনুমান করেন, ইহাই পূর্ববঙ্গের যাদব- বংশীয় বর্ম'রাজগণের আদি বাসভূমি। কলিঙ্গেও এক সিংহপুর রাজ্য ছিল; এই স্থান বর্তমানে সিঙ্গপুরম্ নামে পরিচিত এবং চিকাকোল ও নবাসন্নপেতার মধ্য- স্থলে অবস্থিত। সিংহলদেশীয় গ্রন্থে যে বিজয়সিংহের আখ্যান আছে।


#বাংলাদেশের_ইতিহাস #historyofbengal #অডিওবুক #history #বাংলা #বর্ম_রাজবংশ
#ইতিহাস

Related Audio Books

বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত।
বাংলা দেশের ইতিহাস প্রাচীন যুগ ভূমিকা ও প্রকাশকের কথা। ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব
বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার রচিত ১ম পর্ব (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব।
বাংলার প্রাচীন জনপদ ও সীমানা,(বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ২য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব।
বাঙালি জাতির উৎপত্তি (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার) ৩য় পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব।
বাংলাদেশের প্রাক আর্যযুগ ও আর্য প্রভাব (বাংলা দেশের ইতিহাস ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার)৪র্থ পর্ব। (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫
বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ( বাংলা দেশের ইতিহাস, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার পর্ব -৫ (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব)
গুপ্ত শাসন ও গুপ্ত পরবর্তী যুগ (বাংলা দেশের ইতিহাস ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার ৬ষ্ট পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য  (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র  মজুমদার ৮ম পর্ব)
প্রাচীন পাল সাম্রাজ্য (বাংলাদেশের ইতিহাস ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ৮ম পর্ব) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলার পাল সাম্রাজ্যের পতন,বাংলাদেশের ইতিহাস, ড.রমেশচন্দ্র মজুমদার (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার)
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, পাল সাম্রাজ্যের পতন (বাংলাদেশের ইতিহাস, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার) (বাংলাদেশের ইতিহাস ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত)
StoryPaths with Antor রমেশচন্দ্র মজুমদার