Playlist Audiobooks
Description
“অতএব, আপনি বিবৃতকরুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে।” [সুরা আল আরাফ ১৭৬] নবীদের মধ্যে আমরা যাদের নাম জানি তারা হলেম আদম, শীস, ইদরিস, নূহ, হুদ, সালেহ, ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, লুত, ইয়াকুব, ইউসুফ, শু’আয়েব, আইয়ুব, যুল-কিফল, মুসা, হারুন, ইঊসা বিন নুন, আল ইয়াসা, ইলিয়াস, দাঊদ, সোলায়মান, ইঊনুস, জাকারিয়া, ইয়াহহিয়া, ঈসা আলাইহিসসালাতু ওয়াসসালাম এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পূর্ববর্তী নবীদের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা বলছেন, “এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।” [সূরা আন’আম ৬:৯০] নবীরা হলেন সেসকল ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা রাসূলকে (সা.) নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁদেরকে অনুসরণ করার জন্য, তাঁদের দেখানো পথে চলার জন্য। কেননা তাঁরাই শ্রেষ্ঠ। আমাদের প্রত্যেকের রোল মডেল বা অনুকরণীয় আদর্শ থাকা প্রয়োজন। আর শৈশবে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো আদর্শ আছে, হয় তারা ভালো, নয়তো খারাপ। মানুষের ধরণটাই এমন, সে কাউকে না কাউকে অনুরসরণ করেই। আজকে মুসলিমদের মাঝে নবীদের আদর্শ, রাসূলুল্লাহর আদর্শ আর সাহাবাদের আদর্শ তুলে ধরা হচ্ছে না বলেই মুসলিমরা ভ্রান্ত আদর্শের অনুসারী হচ্ছে। নবীদের সাথে অন্য যেকোনো ব্যক্তিত্বের পার্থক্য হচ্ছে, নবীদেরকে স্বয়ুং আল্লাহ তা‘আলা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু অন্য আদর্শের ক্ষেত্রে, যেমন কার্ল মার্ক্স, চে গুয়েভারা, আব্রাহাম লিংকন - এদেরকে যত বড়ই আদর্শ মনে করা হোক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে এদের কাউকেই আল্লাহ তা‘আলা পথ দেখাননি, বরং তারা নিজেদের মনগড়া আদর্শের জন্ম দিয়েছে। নবীদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ওয়াহীর মাধ্যমে পরিচালিত করেছেন, অন্যদিকে এই ধরণের ব্যক্তিত্বরা কেবল তাদের সমসাময়িক বাস্তবতার নিরীখে নিজেদের সীমিত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং এই আদর্শগুলোর কোনোটিই স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সার্বজনীনতা লাভ করতে সমর্থ হয় নি, সময়ের সাথে সাথে তাদের প্রচারিত মতাদর্শগুলোর ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা নবীদের মাধ্যমে মানুষকে যে আদর্শ শিক্ষা দিয়েছেন, তা নিখুঁত, সার্বজনীন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তা প্রযোজ্য থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই যেখানে আল্লাহ আদেশ করছেন পূর্ববর্তী আম্বিয়াগণে অনুসরণ করতে, সেখানে আমাদের জন্যও তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার প্রেরিত নবীদের জীবন সম্পর্কে আমাদেরকেও জ্ঞান অর্জন করলেই তারা আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ হতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমরা তোমার কাছে এই কুরআন প্রত্যাদেশের দ্বারা তোমার নিকট শ্রেষ্ঠ কাহিনী বর্ণনা করছি। আর অবশ্যই এর আগে তুমি তো ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত।” [সুরা ইউসুফ ১২:৩] অর্থাৎ, এই কাহিনীগুলো হল শ্রেষ্ঠ সব কাহিনীগুলো যাতে আছে সৃষ্টিদের সেরাদের নিয়ে কথা। আর তাই আদম থেকে ঈসা আলাইহিমুসসালাতু ওয়াসাল্লাম এর কাহিনী নিয়েই আমাদের ভিডিও সিরিজ
“অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা” [কুরআন ২০:১২০]
শাইতান আমাদের দুর্বল স্থানগুলোর ব্যাপারে অবগত থাকে, আর সেই স্থানেই সে আক্রমণ করে। সে আদমের কাছে কি খোলাখুলি ভাবেই বলে নি যে যাও আল্লাহ্কে অমান্য কর, না হলে আদম সেটা কখনই করতো না। সে তাকে বলল, এই গাছ তোমাকে অনন্ত জীবন দেবে, অসীম জীবন দেবে, তোমাকে রাজত্ব দেবে। আদম আর হাওয়া সেই গাছের ফল খেল আর এই কারণে আল্লাহ্ তাদের পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন।
যখনই আপনি এই আয়াত পড়বেন অথব এই কাহিনী শুনবেন, আপনি কি কখনও চিন্তা করেছেন যে কি করে এমন মহান একজন নবী এই ধরণের ভুল করতে পারেন? কখনও কি ভেবেছেন কি করে? আল্লাহ্ তাকে আদেশ দিয়েছিলেন সেটা স্পর্শ না করতে কিন্তু তিনি তার ফল খেলেন। আপনি কি কখনও ভেবেছেন এটা কি করে হল? আমার মনে হয় আপনাদের অনেকেই এই ধরণের চিন্তা রাখেন, যে কি করে? ইনি তো একজন আল্লাহ্র নবী!! যাই হোক, সেই সময়ে তিনি তখনও আল্লাহ্র নবী হন নি। পরে পৃথিবীতেই তিনি নবী হন।
আদম কেন এমনটা করলেন তা না ভেবে আমাদের নিজেদের পাপ আর ভুল করা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিৎ নয় কি? এটা বোঝা অনেক বেশি কঠিন যে কেন আমরা পাপ করি। কারণ আদমের তো কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা, তিনি শাইতান সম্পর্কে জানতেন না। তার শাইতান সম্পর্কে জ্ঞান থাকলেও অভিজ্ঞতা ছিলনা। অভিজ্ঞতা, জ্ঞানের চেয়ে ভিন্ন। আদম জানতেন শাইতান তার শত্রু, কিন্তু তিনি কখনই তার অভিজ্ঞতা লাভ করেন নি। এমনকি রাসূলাল্লাহ সা. ও বলেছেন, সংবাদ জানা আর দেখা এক নয়। আদমের জ্ঞান ছিল কিন্তু শাইতানের ব্যাপারে কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না।
আমরা জানি আদমের সাথে কি হয়েছিল, আমরা জানি শাইতান কি করেছিল। আর আমরা মানবজাতির সুবিশাল ইতিহাসও দেখেছি। আর আমরাই একই ভুল বারংবার করে যাচ্ছি। আমাদের এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিৎ নয় যে আদম ভুল করেছিলেন। কারণ আদমের জন্যে এটি ছিল একটি নিরপরাধ ভুল। আর আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কারণ আদমের তখন পর্যন্ত কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা। তাই আল্লাহ্ চেয়েছিলেন সেটা আদমের জন্যে একটা পরীক্ষা হয়ে যাক, যাতে সে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে। আর এটা আদমের আল্লাহ্র নবী হবার জন্যে একটি প্রস্তুতিও হতে পারে।
এটি ছিল আদমের জন্যে একটি প্রস্তুতি, আল্লাহ্ তাকে প্রস্তুত করছিলেন। ঠিক যেমন আল্লাহ্ দাউদ আ. কে একটি ভুলের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে প্রস্তুত করছিলেন আর আমরা সে বিষয়ে কথা বলবো। আল্লাহ্ দাউদ আ. খালিফার দায়িত্বের জন্যে প্রস্তুত করছিলেন। আল্লাহ্ তাকে একটি বিচারের মধ্য দিয়ে পরিচালিত করেন আর তিনি সেখানে ভুল করে ফেলেন আর আল্লাহ্ তার সেই ভুল শুধরে দেন। আর বলেন, যে দাউদ এই ভুলের পর আগের চাইতে উত্তম হয়েছেন। তাই আল্লাহ্ আদমকে প্রস্তুত করছিলেন, যাতে তিনি সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান আর শিক্ষা লাভ করেন। আর এটা তাকে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে প্রস্তুত করবে শাইতানকে চেনার জন্য। ভাল লাগলে subscribe করুন