Description
পথিকৃৎদের পদচিহ্ন: নবীদের জীবন পর্ব ১৩ - ইউসুফ আ. শেষ পর্ব
প্রিয়তমা স্ত্রী মারা গেছে, মারা গেছে যাবতীয় বিপদে নিরাপত্তা দানকারী স্নেহপরায়ণ চাচা আবু তালিব। রাসূল সা. এর জীবনে এই কঠিন সময়টিকে বলা হয় ‘আমিল হুজন’ বা দুঃখের বছর। অত্যন্ত কাছের দুই মানুষকে হারিয়ে রাসূল সা. শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। পার করতে থাকেন অসহনীয় মুহূর্ত। এ অবস্থায় রাসূল সা. কে দৃঢ়তা প্রদান করার জন্য মহান আল্লাহ নাযিল করেন সূরা ইউসুফ।
শুধু উপরের প্রেক্ষাপট টুকু অনুধাবন করে সর্বদা মনে রাখতে পারলেই সূরা ইউসুফের প্রকৃত শিক্ষা আমরা অর্জন করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
ইউসুফ আ. এর জীবনী থেকে আমরা দেখি, আল্লাহ তাকে সফলতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই সফলতা রাতারাতি আসেনি, বরং ইউসুফ আ. কে অন্ধ কূপের একাকীত্ব, দাসজীবনের বিড়ম্বনা, নারীর মারাত্নক ফিতনা, কারাগারের অসহায়ত্বের মতো কঠিন কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
এতো কিছুর পরও ইউসুফ আ. হতাশ হননি, ধৈর্য হারিয়ে ফেলেননি। তিনি অবলম্বন করেছেন তাকওয়া। আর তাই শেষ পর্যন্ত অর্জন করতে পেরেছেন বিজয়ের বরমাল্য। সবর এবং তাকওয়ার উত্তম অনুশীলন তাঁকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই সফল করেছে।
তাই কেউ যদি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় তারই হবে। হতে পারে সফলতা দেরীতে আসবে, কিন্তু আসবেই এটা সুনিশ্চিত।