I

Irfan Sadik

July 09, 2026 01:28 PM • 38 views • Original: July 03, 2026 04:38 AM
প্রবন্ধ
আমরা বাঙালিরা সবসময় কেন জানি ভুল শিক্ষা নিতে অভ্যস্ত।

ইরানের কথাই ধরুন।

ইরানের সাথে আমেরিকার যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বিশ্ব যেসব আন্তর্জাতিক আইন বা জেনেভা কনভেনশন ইত্যাদি চাপিয়ে দেয়, সেগুলোর তোয়াক্কা না করে নিজের শক্তি তৈরি করা।

ইরান থেকে আরো একটা শিক্ষা হলো, ইরান যখন পশ্চিমাপন্থী শাসককে বিদায় করে দিয়ে নিজেদের শিয়াধর্মের পক্ষে বিপ্লব ঘটিয়ে ক্ষমতা নিয়েছে, এরপরেই তারা জাতীয় ঐক্য ও আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে।

কিন্তু বাঙালিরা শিক্ষা নিলো কী?

"অতি বিশুদ্ধতা" বাদ দিয়ে আমাদেরকে শিয়া, কুবুরি, বিদআতি, নদীয়া—সব ধরণের বিকৃত ইসলামকে এলাউ করে "বহুত্ববাদি", "ইনক্লুসিভ" রাষ্ট্র করা লাগবে।

ইসলাম নিয়ে এতো কড়াকড়ি ভালো না। তাই ইসলাম বাদ দিয়ে মাথার এক অংশ আমেরিকার দিকে, আরেক অংশ ভারতের দিকে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো প্রকৃত প্র‍্যাগমেটিজম। তাহলেই ইরানের মত যোদ্ধাজাতি হবো আমরা।

এগুলো কোনোটাই ঘুনাক্ষরেও ইরানের ক্ষেত্রে এপ্লিকেবল না। তার থেকে তারা যদি বলতো, আমাদের সবার কট্টর শিয়া হয়ে উচিত—সেটা আরো বেশি সেন্স মেক করতো।

ইরানসহ যারাই বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রায় সবার ক্ষেত্রেই কিছু কমন বৈশিষ্ট্য আছে যা তাদেরকে ফাইটিং স্পিরিট দিয়েছে, আত্মমর্যাদা দিয়েছে, জাতীয় ঐক্য দিয়েছে। সেগুলো হলো—

১. এরা পশ্চিমা বাদ-মতবাদ ছুড়ে ফেলে নিজেদের আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সমাজকে গড়ে নিয়েছে

২. পশ্চিমাদের স্বার্থ হাসিল করা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, জেনেভা কনভেনশনের মত মূর্তিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে নিজ এজেন্ডায় কাজ করে গেছে

৩. নিজেদের সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য তৈরির ক্ষেত্রে তারা বিশ্বের কে কী বলছে তার খুব বেশি পরওয়া করে নি

অথচ বাংলাদেশে ইরান নিয়ে যারা আদিখ্যেতা সবচেয়ে বেশি করে, তারা সবাই হয় সেক্যুলারিস্ট, নয় গণতন্ত্রী, জাতীয়তাবাদি, ইসলামোফোব, আমেরিকা কিংবা ভারতের আনুগত্যশীল লোকজন। কী আইরনি!

এটা কি তারা বোঝে না?

বোঝে।

তাহলে কেন ইরান নিয়ে আদিখ্যেতা দেখায়?

কারণ শিয়াইজমকে যদি বাংলাদেশে জনপ্রিয় করা যায়, তাহলে তাদের চিন্তা হলো, মানুষ কঠোর বিশুদ্ধবাদি (Puritan) ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে লালনবাদ ও নদীয়ার ইসলাম প্রমোটের কারণই এটা।

কারণ এই সেক্যুলার জাতিরাষ্ট্রের মূল সমস্যা এই বিশুদ্ধবাদি (or should I say, প্রকৃত?) ইসলামের সাথে। এই ইসলামের পলিটি ধ্বংস করেই সেক্যুলার জাতিরাষ্ট্রের জন্ম। আর ঐতিহাসিকভাবে এই ইসলামই তাদের গলার কাটা।

এজন্য এখন নেত্র নিউজদের মত মিডিয়াগুলো হাজি শরিআতুল্লাহকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।

সুতরাং, তাদের অতি ইরানপ্রীতিতে ধোঁকা খাবেন না। আমেরিকা বিরোধিতায় এদের কোনো আগ্রহ নেই। আগ্রহ কেবল সেই ইসলামের বিরোধিতায়, যে ইসলাম এ মাটির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, ফাইটিং স্পিরিট দিতে পারে ও সোনালি ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

দ্বীনে ফিরে আসুন। সত্যিকার আত্মমর্যাদাবান জাতি হয়ে উঠতে পারবেন।
Back to Archive
Related Posts
Related Books (PDF)