বশ্যতার খেসারত | কখনও ঝরে যেও না | Revive your Iman

Description

বশ্যতার খেসারত | কখনও ঝরে যেও না | Revive your Iman

মর্যাদার অধিকারী হতে চাইলে কিছু মূল্য দিতে হয়, কিছু খেসারত দিতে হয়। কিন্তু দুর্বল চিত্তের কিছু মানুষ আছে, যাদের কাছে এই খেসারত হচ্ছে একটা বোঝার মতো, এমন এক বোঝা যা বহন করার সাধ্য তার নেই। এ বোঝা থেকে পালিয়ে বেড়াতে, তারা বেছে নেয় বশ্যতা স্বীকারের পথ। ফলে তার জীবন হয়ে যায় সস্তা, অর্থহীন, যে জীবন নড়বড়ে আর শঙ্কা দিয়ে ঘেরা। এ এমন এক জীবন, যে জীবনে তারা নিজেদের ছায়া দেখলেও ভয় পায়, নিজেদের কণ্ঠস্বর শুনেই কেঁপে ওঠে।
এরা এমন এক অন্যায্য মূল্য দিয়ে বশ্যতাকে কিনে নেয় যা মুক্তির মূল্যের চাইতে বহুগুণে বেশি। বশ্যতা স্বীকারের মূল্য এরা কড়ায়-গণ্ডায় পরিশোধ করে। নিজেদের আত্মাকে বিকিয়ে দিয়ে, আত্মমর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে, সুনামকে ক্ষুন্ন করে, মনের শান্তিকে বলি দিয়ে, কখনো বা নিজেদের অজ্ঞাতসারে নিজেদের জান-মাল দিয়ে হলেও এরা বশ্যতার খেসারত দেয়। তারা নিজেদের এই ভেবে বোকা বানায় যে, যদি তারা নিজেদের মানমর্যাদা কিছুটা ক্ষুন্ন করে বশ্যতা স্বীকার করে নেয়, বিনিময়ে ক্ষমতাসীন শাসকবর্গ তাদের স্বীকৃতি দেবে! কিন্তু আসলে কী তা হয়? আমরা তো এমন কতবারই দেখেছি, এই মানুষগুলোকে তাদের প্রভুরা ছুঁড়ে ফেলতে এতটুকু বিলম্ব করেনি, অথচ নিজেদের গা বাঁচাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা এই মনুষ্যপ্রভুদের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল! এরকম কতো মানুষ তাদের পৌরুষকে জলাঞ্জলি দিয়ে এই প্রভুদের সামনে মাথানত করেছে, তাদের পায়ের ধূলোয় মুখ মুছেছে, শেষ পর্যন্ত নিজের মনুষ্যত্বটাই খুইয়ে এসেছে। দিন শেষে এরা কী পেয়েছে? এরা লাভ করেছে এক অর্থহীন, তুচ্ছ জীবন। যে প্রভুদের অনুগ্রহ লাভের আশায় সে তার জিভ ঝুলিয়ে রেখেছিল, লেজ নাড়িয়েছিল, কাদামাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছিল, সেই প্রভুরা তাদের দিনশেষে তাদেরকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন কতো মানুষ আছে, যারা সম্মানিত হতে পারত, মহৎ হতে পারত, আল্লাহর দেওয়া আমানতের সংরক্ষণ করতে পারত। কিন্তু না—তারা সেই আমানতের খেয়ানত করেছে, দায়িত্ব পালনে শিথিলতার পরিচয় দিয়েছে। কেউ কেউ নিজেকে বিকিয়ে দেওয়ার জন্য এতই মরিয়া হয়ে যায় যে, খোদ জালিমও অবহেলা আর অবজ্ঞায় তাকে কিনে নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যারা একসময় তাকে মিথ্যে আশা আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারাই একসময় তাকে দূর্গন্ধময় লাশের মত পরিত্যাগ করে,
লাথি মেরে দূরে তাড়িয়ে দেয়। অনেকের অবস্থা এমন হয়েছে যে, তারা পাহাড়ের চূড়া হতে একেবারে মাটিতে আছড়ে পড়েছে। কেউ তাদের প্রতি দয়া করে নি, দয়া দেখায় নি, তাদের জানাযায়ও অংশ নেয়নি—যে প্রভুদের সান্নিধ্য পেতে তারা এতটা নীচে নেমেছে, এমনকি তারাও না।
এত এত স্মরণিকা আর অভিজ্ঞতা থাকার পরেও আমরা দেখি, নিজেকে বিকিয়ে দেওয়ার এই তালিকায় প্রতিনিয়ত কেউ-না-কেউ যুক্ত হচ্ছে, জালিমের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে পূর্ণ খেসারত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আল্লাহর সাথে, আপন মানুষদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে, আমানতের খেয়ানত করছে, নিজেদের মানমর্যাদাকে বিসর্জন দিচ্ছে, মনুষ্যপ্রভুর নৈকট্যপ্রাপ্তি আর আরাম-আয়েশের লোভে নিজেদের জিভ বের করে দিয়েছে। বস্তুত, এরা মরুভূমির মরীচিকাকে তাড়া করছে, অবশ্যম্ভাবী এক পতনের দিকে ছুটে যাচ্ছে। মানুষ উল্লসিত চোখে তার পতন উপভোগ করে আর তার পুরাতন প্রভুরা তাচ্ছিল্যের সাথে তার দিকে চেয়ে থাকে।
আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে, আমি দেখেছি এবং দেখেই চলেছি—বড় মাপের সব মানুষ, যারা মাথা নিচু করে, ঘাড় কাত করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষকে প্রভু মেনেছে। বশ্যতার বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রভুর আজ্ঞাবহ হয়েছে। যখনই প্রভুর কার্যোদ্ধার হয়েছে, পা দিয়ে ঠেলে কুকুরের মতো তাদের সরিয়ে দিয়েছে আর তারা কাতারবদ্ধ হয়েছে দাসদের এক লম্বা সারিতে—তাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না।
আমি দেখেছি তাদের! তারা হতে পারত মুক্ত-স্বাধীন, কিন্তু তারা বেছে নিয়েছে দাসত্বের পথ। তারা হতে পারত দৃঢ়চেতা, কিন্তু তারা হয়েছে দুর্বল। তারা হতে পারত শ্রদ্ধার পাত্র, কিন্তু তারা হয়েছে কাপুরুষ। কিছু মূল্য দিতে হবে বলে সম্মান আর মর্যাদার পথকে পরিত্যাগ করেছে, অথচ বশ্যতার চড়া মূল্য তারা দিয়ে চলেছে বারেবার। ক্ষমতাসীনদের মনজয় করতে তারা ভয়ানক সব অপরাধ আর পাপে জড়িয়েছে, শুধু যেন তাদের ছায়ায় একটুখানি আশ্রয় নিতে পারে, অথচ ক্ষমতাসীনদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করার ক্ষমতা তাদেরই ছিল, হাতের মুঠোয় ছিল! আমি দেখেছি পুরো একটা জাতি, মাত্র একবার মুক্তির মূল্য পরিশোধ না করে ভয় পেয়ে পিছু হটেছিল বিধায় পরাজয় আর নিপীড়ণের মূল্য পরিশোধ করে গেছে বারবার, অথচ পরাজয়ের মূল্যের তুলনায় মুক্তির মূল্য তো তেমন কিছুই ছিল না। অতীতে, ইহুদিরা তাদের নবীকে বলেছিল,
“...হে মূসা, সেখানে একটি প্রবল পরাক্রান্ত জাতি রয়েছে। আমরা কখনও সেখানে যাব না, যে পর্যন্ত না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায় তবে নিশ্চিতই আমরা প্রবেশ করব...” (সূরাহ মায়েদা 5:২২)

Details

634 Views
বশ্যতার খেসারত | কখনও ঝরে যেও না | Revive your Iman

মর্যাদার অধিকারী হতে চাইলে কিছু মূল্য দিতে হয়, কিছু খেসারত দিতে হয়। কিন্তু দুর্বল চিত্তের কিছু মানুষ আছে, যাদের কাছে এই খেসারত হচ্ছে একটা বোঝার মতো, এমন এক বোঝা যা বহন করার সাধ্য তার নেই। এ বোঝা থেকে পালিয়ে বেড়াতে, তারা বেছে নেয় বশ্যতা স্বীকারের পথ। ফলে তার জীবন হয়ে যায় সস্তা, অর্থহীন, যে জীবন নড়বড়ে আর শঙ্কা দিয়ে ঘেরা। এ এমন এক জীবন, যে জীবনে তারা নিজেদের ছায়া দেখলেও ভয় পায়, নিজেদের কণ্ঠস্বর শুনেই কেঁপে ওঠে।
এরা এমন এক অন্যায্য মূল্য দিয়ে বশ্যতাকে কিনে নেয় যা মুক্তির মূল্যের চাইতে বহুগুণে বেশি। বশ্যতা স্বীকারের মূল্য এরা কড়ায়-গণ্ডায় পরিশোধ করে। নিজেদের আত্মাকে বিকিয়ে দিয়ে, আত্মমর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে, সুনামকে ক্ষুন্ন করে, মনের শান্তিকে বলি দিয়ে, কখনো বা নিজেদের অজ্ঞাতসারে নিজেদের জান-মাল দিয়ে হলেও এরা বশ্যতার খেসারত দেয়। তারা নিজেদের এই ভেবে বোকা বানায় যে, যদি তারা নিজেদের মানমর্যাদা কিছুটা ক্ষুন্ন করে বশ্যতা স্বীকার করে নেয়, বিনিময়ে ক্ষমতাসীন শাসকবর্গ তাদের স্বীকৃতি দেবে! কিন্তু আসলে কী তা হয়? আমরা তো এমন কতবারই দেখেছি, এই মানুষগুলোকে তাদের প্রভুরা ছুঁড়ে ফেলতে এতটুকু বিলম্ব করেনি, অথচ নিজেদের গা বাঁচাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা এই মনুষ্যপ্রভুদের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল! এরকম কতো মানুষ তাদের পৌরুষকে জলাঞ্জলি দিয়ে এই প্রভুদের সামনে মাথানত করেছে, তাদের পায়ের ধূলোয় মুখ মুছেছে, শেষ পর্যন্ত নিজের মনুষ্যত্বটাই খুইয়ে এসেছে। দিন শেষে এরা কী পেয়েছে? এরা লাভ করেছে এক অর্থহীন, তুচ্ছ জীবন। যে প্রভুদের অনুগ্রহ লাভের আশায় সে তার জিভ ঝুলিয়ে রেখেছিল, লেজ নাড়িয়েছিল, কাদামাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছিল, সেই প্রভুরা তাদের দিনশেষে তাদেরকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন কতো মানুষ আছে, যারা সম্মানিত হতে পারত, মহৎ হতে পারত, আল্লাহর দেওয়া আমানতের সংরক্ষণ করতে পারত। কিন্তু না—তারা সেই আমানতের খেয়ানত করেছে, দায়িত্ব পালনে শিথিলতার পরিচয় দিয়েছে। কেউ কেউ নিজেকে বিকিয়ে দেওয়ার জন্য এতই মরিয়া হয়ে যায় যে, খোদ জালিমও অবহেলা আর অবজ্ঞায় তাকে কিনে নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যারা একসময় তাকে মিথ্যে আশা আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারাই একসময় তাকে দূর্গন্ধময় লাশের মত পরিত্যাগ করে,
লাথি মেরে দূরে তাড়িয়ে দেয়। অনেকের অবস্থা এমন হয়েছে যে, তারা পাহাড়ের চূড়া হতে একেবারে মাটিতে আছড়ে পড়েছে। কেউ তাদের প্রতি দয়া করে নি, দয়া দেখায় নি, তাদের জানাযায়ও অংশ নেয়নি—যে প্রভুদের সান্নিধ্য পেতে তারা এতটা নীচে নেমেছে, এমনকি তারাও না।
এত এত স্মরণিকা আর অভিজ্ঞতা থাকার পরেও আমরা দেখি, নিজেকে বিকিয়ে দেওয়ার এই তালিকায় প্রতিনিয়ত কেউ-না-কেউ যুক্ত হচ্ছে, জালিমের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে পূর্ণ খেসারত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আল্লাহর সাথে, আপন মানুষদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে, আমানতের খেয়ানত করছে, নিজেদের মানমর্যাদাকে বিসর্জন দিচ্ছে, মনুষ্যপ্রভুর নৈকট্যপ্রাপ্তি আর আরাম-আয়েশের লোভে নিজেদের জিভ বের করে দিয়েছে। বস্তুত, এরা মরুভূমির মরীচিকাকে তাড়া করছে, অবশ্যম্ভাবী এক পতনের দিকে ছুটে যাচ্ছে। মানুষ উল্লসিত চোখে তার পতন উপভোগ করে আর তার পুরাতন প্রভুরা তাচ্ছিল্যের সাথে তার দিকে চেয়ে থাকে।
আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে, আমি দেখেছি এবং দেখেই চলেছি—বড় মাপের সব মানুষ, যারা মাথা নিচু করে, ঘাড় কাত করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষকে প্রভু মেনেছে। বশ্যতার বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রভুর আজ্ঞাবহ হয়েছে। যখনই প্রভুর কার্যোদ্ধার হয়েছে, পা দিয়ে ঠেলে কুকুরের মতো তাদের সরিয়ে দিয়েছে আর তারা কাতারবদ্ধ হয়েছে দাসদের এক লম্বা সারিতে—তাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না।
আমি দেখেছি তাদের! তারা হতে পারত মুক্ত-স্বাধীন, কিন্তু তারা বেছে নিয়েছে দাসত্বের পথ। তারা হতে পারত দৃঢ়চেতা, কিন্তু তারা হয়েছে দুর্বল। তারা হতে পারত শ্রদ্ধার পাত্র, কিন্তু তারা হয়েছে কাপুরুষ। কিছু মূল্য দিতে হবে বলে সম্মান আর মর্যাদার পথকে পরিত্যাগ করেছে, অথচ বশ্যতার চড়া মূল্য তারা দিয়ে চলেছে বারেবার। ক্ষমতাসীনদের মনজয় করতে তারা ভয়ানক সব অপরাধ আর পাপে জড়িয়েছে, শুধু যেন তাদের ছায়ায় একটুখানি আশ্রয় নিতে পারে, অথচ ক্ষমতাসীনদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করার ক্ষমতা তাদেরই ছিল, হাতের মুঠোয় ছিল! আমি দেখেছি পুরো একটা জাতি, মাত্র একবার মুক্তির মূল্য পরিশোধ না করে ভয় পেয়ে পিছু হটেছিল বিধায় পরাজয় আর নিপীড়ণের মূল্য পরিশোধ করে গেছে বারবার, অথচ পরাজয়ের মূল্যের তুলনায় মুক্তির মূল্য তো তেমন কিছুই ছিল না। অতীতে, ইহুদিরা তাদের নবীকে বলেছিল,
“...হে মূসা, সেখানে একটি প্রবল পরাক্রান্ত জাতি রয়েছে। আমরা কখনও সেখানে যাব না, যে পর্যন্ত না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায় তবে নিশ্চিতই আমরা প্রবেশ করব...” (সূরাহ মায়েদা 5:২২)

Related Audio Books

আসল রাজা | কখনও ঝরে যেও না । Revive Your Iman
আসল রাজা | কখনও ঝরে যেও না । Revive Your Iman (কখনও ঝরে যেও না)
Revive Your Iman
আয়নাঘর | Trailer | Revive your Iman
আয়নাঘর | Trailer | Revive your Iman (আয়নাঘর)
Revive Your Iman