Playlist Audiobooks
শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী
(বিকাশ মনোবিজ্ঞান ১ম খন্ড (Developmental Psychology) EB Harlock|| সুলতানা বানু ||)
StoryPaths with Antor
Description
গর্ভকালীন বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়
চাঁদের হিসেব অনুযায়ী আটাশ দিনে এক মাস ধরা হয়। সে হিসেবে গর্ভকালের বিকাশ দশ মাস অথবা বর্ষপঞ্জীর তালিকা অনুযায়ী নয় মাস স্থায়ী। অবশ্য অনেক সময় এই বিস্তৃতিতে তারতম্য হতে পারে এবং গর্ভধারণকালের বিস্তৃতি ১৮০ থেকে ৩৩৪ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
মেরেডিথের (Meredith) বিবরণ অনুযায়ী গর্ভধারণকালের গড় বিস্তৃতি ৩৮ সপ্তাহ অথবা ২৬৬ দিন। তবে শতকরা ৭০ শিশুর ক্ষেত্রে ৩৬ থেকে ৪০ সপ্তাহ (২৫২ দিন থেকে ২৮০ দিন পর্যন্ত) এবং শতকরা ৯৮ জন শিশুর ক্ষেত্রে এ বিস্তৃতি ৩৪ থেকে ৪২ সপ্তাহ (২৩৮ থেকে ২৯৪ দিন) পর্যন্ত হয়ে থাকে।
গর্ভকালীন বিকাশ নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় যা আগে থেকে অনুমান করা যায়। সে জন্য এ সময়ে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য বিকাশের সময়সূচী নির্দিষ্ট করা সম্ভব। গর্ভকালীন বিকাশ তিনটি পর্যায়ে সম্পূর্ণ হয় : জাইগোট বিকাশের পর্যায় (periods of the zygote), ভ্রূণ বিকাশের পর্যায় (periods of the embryo), ফেটাস বিকাশের পর্যায় (periods of the fetus) অথবা পূর্ণাঙ্গ শিশুর উদ্ভব। প্রত্যেকটি পর্যায়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে এবং সে সময় বিশেষ বিশেষ পরিবর্তন সংঘটিত হয়। নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুসরণে কিভাবে গর্ভকালীন বিকাশ সম্পন্ন হয় তা নীচে বর্ণনা করা হল।
১. জাইগোট পর্যায় (গর্ভধারণের মুহূর্ত থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত)। এ সময় ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোটটির আকৃতি আলপিনের মাথার মত হয় এবং এর মধ্যে বাইরের কোনো খাদ্য সরবরাহ না হওয়ায়
#বিকাশ_মনোবিজ্ঞান
জাইগোটের আকৃতিরও কোনো পরিবর্তন হয় না। ডিম্বাণুর অভ্যন্তরে পীত অংশ জাইগোটটিকে বাঁচিয়ে রাখে। এই পর্যায়ে ফ্যালোপিয়ান নালিকা অতিক্রম করে জরায়ুতে নেমে আসার সময় কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাইগোটের অভ্যন্তরে পরিবর্তন সংঘটিত হয়। ক্রমে একটি ভিতরের স্তর ও একটি বাইরের স্তর সৃষ্টি হয়। জাইগোটের বাইরের স্তর থেকে গর্ভফুল (placenta), গর্ভরজ্জু (umbillical cord) ও তরল এমনিওটিক পদার্থপূর্ণ একটি থলির (aminiotc sac) উদ্ভব হয়। ভিতরের স্তর থেকে একটি নূতন প্রাণীর উৎপত্তি হয়।
ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার দশ দিন পরে জাইগোটটি জরায়ুর গায়ে সংযোজিত- হয় (গেঁথে যায়)।
২. ভ্রূণ বিকাশের পর্যায় (দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দু মাস পর্যন্ত)। এ পর্যায়ে ভ্রূণ একটি ক্ষুদ্রাকৃতির মানুষে পরিণত হয়। এ সময় দেহের উপরের অংশে অর্থাৎ মাথায় প্রধান প্রধান পরিবর্তন অনুষ্ঠিত হয়; পরে দেহের নীচের অংশে ও দেহের প্রান্তভাগে পরিবর্তন দেখা দেয় (চিত্র ২.৪ দ্রষ্টব্য) এ পর্যায়ে দেহের বাইরের ও আভ্যন্তরীণ প্রধান প্রধান অঙ্গগুলোর সৌষ্ঠব বৃদ্ধি হয়। জরায়ুর অভ্যন্তরে ভ্রূণ নড়াচড়া করে এবং হাত পায়ের নড়াচড়া শুরু হয়। গর্ভফুল গর্ভরজ্জু ও এমনিওটিক থলির সৃষ্টি হয়। এগুলো ভ্রূণকে পুষ্টি যোগায় এবং সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করে। দ্বিতীয় মাসের শেষে ভ্রূণের গড় ওজন ১ আউন্স এবং দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি হয়।
৩. ফেটাস বিকাশ পর্যায় (দ্বিতীয় মাসের শেষ থেকে জন্মগ্রহণ পর্যন্ত) ভ্রূণ বিকাশ পর্যায়ে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যতটুকু বৃদ্ধি হয় ও যতটুকু কর্মক্ষমতা অর্জন করে এ পর্যায়ে সেগুলোর উত্তরোত্তর উন্নতি সাধিত হয়; নূতন কোনো অঙ্গের উদ্ভব হয় না। তৃতীয় মাসের শেষে আভ্যন্তরীণ কোনো কোনো অঙ্গ কর্মক্ষমতা অর্জন করে। প্রায় ১৫ সপ্তাহে গর্ভস্থ হৃৎস্পন্দন নিরূপণ করা সম্ভব। পাঁচ মাস পরে আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহের মতো সঠিক জায়গায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তৃতীয় সপ্তাহ থেকে স্নায়ুকোষের উদ্ভব লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ মাসব্যাপী স্নায়ুকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। মায়ের দৈহিক অবস্থার (স্বাস্থ্য) উপর কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি নির্ভর করে। যেমন, গর্ভকালের শেষের দিকে মায়ের দেহে পুষ্টির অভাব হলে স্নায়ুকোষের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া প্রথম অনুভূত হয় আঠারো থেকে বাইশ সপ্তাহের মধ্যে। তারপর থেকে শিশুর নড়াচড়া উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। নয়
#অডিওবুক
#শিশুরগর্ভকালীনসমস্যাকিংবাবাঁধা